খুলনা
লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগের সঙ্গে বাড়ছে দুশ্চিন্তা!

প্রতীকী ছবি
আষাঢ় মাসের মধ্য সময় পেরিয়ে গেলেও খুলনায় চলছে তীব্র তাপদহ। বৃষ্টি নেই বললেই চলে। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে খুলনায় চলছে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগী ও শিশু-বয়স্করা।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে গৃহস্থালীর কাজ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় সকল প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য। এ ছাড়া চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাও মানুষ ঠিকমতো খেলাও দেখতে পারছে না। ফলে তরুণ-যুবকরাসহ ক্ষুব্ধ হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীরা।
সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ নিয়ে খুলনার মানুষ এখন ক্ষুব্ধ ও অতিষ্ঠ। একইসঙ্গে রয়েছে চরম দুশ্চিন্তায়।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, গতকাল রবিবার রাতে ওজোপাডিকোর আওতাধীন ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৭৪ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ করা হয়েছে ৭০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এ ছাড়া সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮০৭ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ করা হয়েছে ৭০২ মেগাওয়াট। অর্থ্যাৎ ১০৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।
রাত ও দিনের অধিকাংশ সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না দাবি করে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহিয়ান শিকদার ও ফাতিমা মাহবুব মারিয়া বলেছেন, পরীক্ষার আগ মুহূর্তে পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।
খালিশপুরের লেদ ব্যবসায়ী এনায়েত আলী বলেছেন, আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনির্ভর। বেশ কিছুদিন ধরে চরম লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ঠিকমতো কাজই করা যাচ্ছে না। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পরিবারের খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যা মানষিক সুখ কেড়ে নিয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার গোনালী গ্রামের গৃহবধূ নূসরাত জাহান বৃষ্টি বলেছেন, গ্রামে বসবাস করি আমরা। দিন-রাতের বেশিরভাগ সময়ই এখন বিদ্যুৎ থাকে না। এক দেড়ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও পাঁচ-সাত মিনিট থেকে আবারো নেই হয় বিদ্যুৎ। ফলে তীব্র গরমে বাচ্চা ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছি। এরমধ্যে রাতে থাকে মশার মহা উৎপাত। ফ্রিজের খাবার-দাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কাজী শামীম আহমেদ ফুটবলের ভীষণ ভক্ত। এখন চলছে, বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। তিনি বলেছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো খেলা দেখতে পারছি না। আর প্রিয় দলের ম্যাচের সময় লোডশেডিং হলে মাথা ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আর যারা বড় পর্দায় ম্যাচ দেখে, তারা খেলা চলাকালীন লোডশেডিং হলে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করতে থাকে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজারের মতো রোগী ভর্তি থাকে। তাদের সঙ্গে থাকে তাদের স্বজনরাও। ফলে যখন হাসপাতালে বিদ্যুৎ থাকে না, তখন এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা কাজও বিঘ্ন ঘটে।
লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেছেন, বিদ্যুতের চরম লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সরকারের উচিত যেভাবেই হোক চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করে মানুষের স্বস্তির ব্যবস্থা করা।




