রাজশাহী
গণপিটুনিতে ‘ডাকাত’ নিহতের ঘটনায় পুলিশের মামলা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় গণপিটুনিতে এক ‘ডাকাতের’ মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামের ২৫০–৩০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুটি মামলাই পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে পুঠিয়ার পলাশি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটজনকে আটক করে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। এতে মো. শাহীন (৫৫) নামে একজন নিহত হন। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। আহত সাতজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—পুঠিয়ার চকপলাশি গ্রামের মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী এলাকার মো. শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাইয়ের নানজেগুড়ি গ্রামের মো. খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বামালের চর গ্রামের সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের মো. মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মো. রূপচান (৩০)।
পুলিশ জানায়, রাত দেড়টার দিকে একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলটি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসী তাদের আটক করে। পরে তাদের বেঁধে মারধর করা হয় এবং ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়। এ সময় ট্রাকটিতে আগুন দেওয়া হয়।
এরপর আজ সোমবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহীনকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদ একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় চিকিৎসাধীন সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া গণপিটুনিতে শাহীনের মৃত্যুর ঘটনায় এসআই মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞাতনামা ২৫০–৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

