শিশু আবিরার চিঠি নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর বাউফল-দুমকি উপজেলার মধ্যবর্তী লোহালিয়া নদীতে একটি সেতুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছে দাসপাড়া মডেল সরাসরি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিরা (৭)। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে তিনি সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেন সেতুমন্ত্রীকে ।
আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীতে বগা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সরেজমিন পরিদর্শনে এসেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রবিউল আলম বলেছেন, ‘আমি ধারণা করছি এ বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে আমরা বগা সেতুর কাজ শুরু করে দিতে পারব।এটি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ। আমাদের ১৬ হাজার নৌপথ আছে। এটা আল্লাহর আর্শীবাদ। আমরা যদি এটাকে সঠিক ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আধুনিক রাষ্ট্র তৈরি হবে।’
আবিরাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘আবিরার এই ইনোসেন্ট আপিল খুবই নির্মম। আমি ভিডিওটি অনেকবার দেখেছি। ছোট শিশু একটি সেতুর জন্য ভেবেছে। ওর তো এখন খেলনা নিয়ে খেলার কথা। আমাদের জেনারেশনটা কেমন হচ্ছে? শিশুটি উন্নয়ন নিয়ে ভাবছে। তার অধিকার নিয়ে ভাবছে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সে। তার মানে আমাদের জেনারেশন এগিয়ে যাচ্ছে।’
‘নতুন প্রজন্মকে আটকে রাখা যাবে না। জনগণের স্বার্থে যেখানে-সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আবিরাকে আবারও ধন্যবাদ জানাই,’ যোগ করলেন রবিউল আলম।
প্রধানমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আবিরা। ‘কিছুদিন আগে আমার মা অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। তাই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিন থেকেই আমার মনে হয়েছে সেতুটি হওয়া খুব জরুরি। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। তিনি সেতুমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন। আমার অনেক ভালো লাগছে,’ জানাল শিশুটি।
এদিকে বাউফলের বগা এলাকায় পৌঁছালে সেখানে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে গেট, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়। এসব ব্যানারে জামায়াত নেতা ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং সেতুমন্ত্রীর ছবি থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান।
একপর্যায়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা মন্ত্রীর চারপাশে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেখানে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রী সেখানে অংশ না নিয়ে দুমকি উপজেলায় আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে যোগ দেন।




