ভোলা
খালি সিলিন্ডার হাতে দোকানে দোকানে ঘুরছেন ক্রেতারা

খালি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
ভোলায় এক মাস ধরে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চলছে। বাজারে ২৮টি কোম্পানির মধ্যে এখন মাত্র তিন-চারটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তাও সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়; এরসঙ্গে বেড়েছে দাম। এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নিতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা। বাধ্য হয়ে অনেকে রান্নার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন।
ভোলা শহরের বিভিন্ন এলপিজি বিক্রির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি দোকানে সিলিন্ডার থাকলেও সেগুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখন বাজারে ফ্রেশ, ওমেরা ও বিএম কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্য অনেক কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার নিয়ে এলে অন্য কোম্পানির গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
নতুন বাজারের নূর এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবদুর নূর জানিয়েছেন, আগে তার দোকানে প্রতিদিন ১৫-২০টি সিলিন্ডার বিক্রি হতো। এখন দুই-তিনটির বেশি বিক্রি হচ্ছে না। সিলিন্ডার নিয়ে জটিলতা ও দাম বৃদ্ধির কারণে কেনাবেচা কমে গেছে। অনেকে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন।
একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মো. জামাল ওমেরা কোম্পানির গ্যাস বিক্রি করেন। তিনি জানালেন, ক্রেতারা অন্য কোম্পানির খালি সিলিন্ডার নিয়ে এলে তিনি তা নিতে পারেন না। কারণ, কোম্পানির প্রতিনিধিরা অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার নিতে চান না।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বসুন্ধরা, ইউএমআই, নাভানা, বেঙ্গল, আইগ্যাস, ফ্রেশ ও বিএম কোম্পানির ১২ কেজি সিলিন্ডারের পাইকারি দাম আগে ছিল ১ হাজার ৫৩০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকা হয়েছে। ওমেরা কোম্পানির সিলিন্ডারের পাইকারি দাম আগে ছিল ১ হাজার ৬৩০ এবং খুচরা দাম ছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা। এখন পাইকারি দাম ১ হাজার ৯০০ ও খুচরা দাম ২ হাজার টাকা। সংকটে থাকা কিছু কোম্পানির গ্যাস কোথাও কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বসুন্ধরা স্টোরের মালিক মো. হাবিবুল্লাহ জানালেন, দাম বৃদ্ধি ও সব কোম্পানির গ্যাস না পাওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানে বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে বেঙ্গল কোম্পানির খালি সিলিন্ডার নিয়ে গ্যাস কিনতে এসে হতাশ হয়েছেন গৃহিণী বিবি মরিয়ম। তিনি জানালেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে তার চুলা জ্বলছে না। বিভিন্ন দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাননি। এখন রান্না করবেন কীভাবে, তা নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়।
একই সমস্যায় পড়েছেন ফেরদাউস নামের আরেক গৃহিণী। কয়েক দিন ধরে গ্যাস না পেয়ে তিনি এখন বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন। গ্যাসের দাম কমানো এবং দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।




