গ্যাস সিলিন্ডার সংকট : সরকারি দরের চেয়ে পৌনে চারশ টাকা বেশি

ছবি: রনি দে
সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অথচ চট্টগ্রামের বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। আবার কোথাও বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না সিলিন্ডার। বিক্রেতারা বলছেন, তারাও নির্ধারিত দামে গ্যাস পাচ্ছেন না। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে একজন ক্রেতাকে একই আকারের সিলিন্ডারের জন্য প্রায় ৩৬৩ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।
নগরের আসকার দীঘির পশ্চিমপাড়ের বিক্রেতা অনুব কান্তি দে। তার দোকানেই এখন পড়ে আছে ১৫ থেকে ২০টি খালি সিলিন্ডার। তিনি জানালেন, ‘ডিলার পর্যায় থেকে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এই দামে কিনে সরকারি দামে বিক্রি করলে কেনা দামই উঠবে না। তাই বাড়তি দামে গ্যাস নেওয়া বন্ধ রেখেছি। এতে গত পাঁচ দিন ধরে নতুন কোনো সরবরাহও পাইনি।’
অনুব কান্তি দে অভিযোগ করেন, সিলিন্ডার কেনার সময় নিয়মিত অফিসিয়াল স্লিপ বা মেমোও দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ কাগজে লেনদেনের হিসাব লিখে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কেনাবেচা হওয়ায় সিলিন্ডারটি কোম্পানি থেকে কোন দামে বের হচ্ছে আর কোন পর্যায়ে কত টাকা বাড়ছে, তা বোঝার সুযোগ কম।
চকবাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ নুরুল আলম বললেন, ‘সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হয়েছে।’
ক্রেতাদের ওপরও পড়েছে বাড়তি দামের চাপ। রহিমা বেগম জানান, ‘এক সপ্তাহ আগেও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ টাকায় কিনেছি। এখন একই সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা।’
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ অক্টোবর ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের অক্টোবরের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দর কার্যকর হয়।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু নতুন দর কার্যকর হওয়ার পরও চট্টগ্রামের বাজারে নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
কাজীর দেউড়ি বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ কায়সার জানালেন, ‘বাড়তি দামে কিনে বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। গত তিন-চার দিন ধরে সিলিন্ডারের সংকট চলছে। চাইলেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।’



