দাউদকান্দি
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসেন না চিকিৎসক, সেবাবঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বন্ধ রয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দির স্ব-পাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার স্ব-পাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসক না বসায় প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার মারুকা ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এতে অসুস্থ রোগীদের কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৮০ সালের দিকে দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মারুকা ইউনিয়নের স্ব-পাড়া গ্রামে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পেতেন এলাকাবাসী। একসময় একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী মেডিকেল অফিসারসহ মোট পাঁচজন কর্মরত ছিলেন। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বর্তমানে পাঁচটি পদই শূন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, ২০২২ সালের মার্চে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। এরপরও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মাঝে মাঝে একজন চিকিৎসক এসে সেবা দিতেন। তবে এখন আর কোনো চিকিৎসক আসেন না।
আরেক বাসিন্দা শাহ আলম জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর চিকিৎসক মাঝেমধ্যে পাশের একটি বাড়িতে বসে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেন। কিন্তু গত তিন বছর ধরে সেই সেবাও বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তালাবদ্ধ।
স্বপন মিয়া জানান, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবিতে গত দুই বছরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেও কোনো ফল পাননি তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মূল ফটকে তালা ঝুলছে, আর আশপাশে জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। দাউদকান্দি উপজেলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত এই এলাকার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাও নাজুক। বিশেষ করে রাতে কেউ অসুস্থ হলে কয়েক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা হেঁটে পেরিয়ে যানবাহনে উঠতে হয়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। এতে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে একজন মেডিকেল অফিসারসহ মোট পাঁচটি পদ। বর্তমানে সব কটি পদই শূন্য।
তিনি আরও জানান, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণ শেষ হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আবারও পূর্ণোদ্যমে চালু করা সম্ভব হবে।




