কুয়াকাটা সৈকতে পিতৃতর্পণ, দুর্গাপূজার অপেক্ষায় সনাতনীরা

ছবি: আগামীর সময়
দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব মহালয়া পালিত হয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পিতৃতর্পণ, পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন ভক্তরা। মহালয়াকে ঘিরে দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার প্রতীক্ষা।
আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমে মাদারীপুর থেকে আসা শতাধিক পিতৃতর্পণার্থীর অংশগ্রহণে তর্পণযজ্ঞ শুরু হয়।
চণ্ডীপাঠের মন্ত্রধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ফুল, তুলসী, তিল ও খাদ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এদিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। পাশাপাশি চণ্ডীপাঠ ও দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে মা দুর্গাকে মর্ত্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জাগরণের প্রত্যাশায় মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মাদারীপুর থেকে কুয়াকাটায় আসা তর্পণার্থী শ্রী বিভাগ ঘোষ জানান, দেবতা, ঋষি ও পিতৃপুরুষদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ফুল, তুলসী, তিল ও খাদ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে তর্পণ করা হয়েছে। এ বিশেষ দিনে মা দুর্গার কাছে তার প্রার্থনা, পৃথিবী থেকে সব অশুভ শক্তি, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হোক। সবাই যেন শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজে বসবাস করতে পারেন।
মহালয়ার তাৎপর্য তুলে ধরে বরিশাল মুরারী সেবা ট্রাস্টের পুরোহিত পণ্ডিত প্রেমসচী গোস্বামী জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহালয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এদিনের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয় এবং মা দুর্গার আগমনী বার্তা পাওয়া যায়। চণ্ডীপাঠ, পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার মাধ্যমে দেবীর কাছে সবার মঙ্গল কামনা করা হয়।
মহালয়া কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জাগরণের প্রতীক। দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের প্রত্যাশা করেন।
কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন মণ্ডল জানান, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা কৈলাস ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যলোক তথা বাপের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।
শাস্ত্র মতে, এবার দেবীর আগমন ঘটছে ঘোটক বা ঘোড়ায় এবং বিদায় হবে নৌকায়। এর ফলে ধরিত্রী শস্যশ্যামলা হবে, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হবে এবং ফসলের ফলন ভালো হবে বলে বিশ্বাস করা হয়।
তিনি আরও জানান, দেবী দুর্গার আবাহনকে কেন্দ্র করে প্রার্থনা, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার অপেক্ষা। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
এদিকে, মহালয়া উপলক্ষে কুয়াকাটায় আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকতসহ পর্যটকদের সমাগমস্থলগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান জানান, পর্যটকেরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সচেতন থাকার এবং যেকোনো সমস্যায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।




