সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে বাড়ির উঠানেই লাশ দাফন

ছবি: আগামীর সময়
ভোলার চরফ্যাশনে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ বাড়ির উঠানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ঘরভাঙচুরের পর পুলিশের উপস্থিতিতে শনিবার বিকালে দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে গত শুক্রবার রাত ৩টায় অসুস্থ হয়ে মারা যান শশীভুষন থানার রসুলপুর ইউনিয়নের আব্দুল জলিল পণ্ডিত নামের ওই ব্যক্তি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চার স্ত্রীর সন্তান ও স্বজনরা বাড়িতে জড়ো হন। এ সময় সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ছোট ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবা জীবিত অবস্থায় সব সম্পত্তি তার নামে লিখে দিয়েছেন। ফলে অন্য ওয়ারিশদের কোনো অংশ পাওয়ার সুযোগ নেই। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে স্মৃতির সাবেক স্বামী খোকন অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে খাদিজা আক্তার স্মৃতির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
তার ভাষ্য, তার উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর ও স্ত্রীর কাছে ছিল। সেই অর্থে বসতঘর নির্মাণ ও জমি কেনা হয়েছে। পরে তার সম্পদ আত্মসাৎ করে স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র চলে যান।
তিনি দাবি করেন, তার পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত দাফন করতে দেওয়া হবে না।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তখন নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।
বড় পরিবারের সদস্যদের দাবি ছিল, আব্দুল জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় বাড়ির উঠানে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবা এমন কোনো নির্দেশনা দিয়ে যাননি এবং তাকে বাড়ির বাইরে কোনো কবরস্থানে দাফন করা উচিত।
এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে ও পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠানেই আব্দুল জলিল পণ্ডিতকে দাফন করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিষয়টি নিয়ে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
আগামীর সময়কে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শশীভূষণ থানার ওসি মো. ফিরোজ আহমেদ।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।




