পদ্মায় বাসডুবি
সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই তলিয়ে গেলেন জ্যোৎস্না

সংগৃহীত ছবি
ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল আট বছর বয়সী আলিফ। দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবির ঘটনায় মায়ের চেষ্টায় ফিরে পেয়েছেন নিজের জীবন। কীভাবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরলেও সে কথাও শুনালেন শিশু আলিফ।
‘যখন বাস ফেরিতে উঠছিল, তখন হঠাৎ করে উল্টে যায়। বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছি। আমি মায়ের কোলে বসে ছিলাম। মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। সাঁতার কেটে উপরে চলে আসি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না’— কেঁদে কেঁদে বলছিলেন শিশু আলিফ।
আজ বুধবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাটে সাংবাদিকদের এসব কথা বলছিলেন আলিফ। সে সময় আলিফের সঙ্গে তার নানি সাহেদা বেগম ছিলেন।
সাহেদা জানান, তার মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়।
‘জ্যোৎস্নাকে আমি বাসে তুলে দিয়েছিলাম। বাড়ি গিয়ে তার সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। তখন জ্যোৎস্না আমাকে বলে, ‘আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’। এরপর আর কোনো কথা শুনি নাই। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেল,’ এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাহেদা।
এদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দুইজনের। তবে এ ঘটনায় এখনো
নিখোঁজ রয়েছেন ৩৩ জন। এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন।
‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— ৩৩ জনের মতো যাত্রীর মরদেহ পানির নিচে রয়েছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে’—জানালেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। বাসে অন্তত যাত্রী ছিলেন ৪৫ জন।

