বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অভিযুক্ত স্বামী শহীদুল্লাহ ও স্ত্রী শাহানাজ বেগম
বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী কার্যালয়ের এসএমই শাখার উপপরিচালক শাহানাজ বেগম ও তার স্বামী সাজ অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল্লাহ সরকারের বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেন ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ, পাওনাদারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।
আজ রবিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকায় অবস্থিত সাজ অটো রাইস মিলের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পাওনা টাকা ফেরত এবং অভিযুক্ত দম্পতির শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে মুলাডুলির শেখপাড়া এলাকায় সাজ অটো রাইস মিল প্রতিষ্ঠা করেন শাহানাজ বেগম ও তার স্বামী শহীদুল্লাহ সরকার। সে সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী শুকুর হাজী, নাজিম উদ্দিন, আব্দুল মান্নান ডাবলুসহ কয়েকজনকে অংশীদার করার আশ্বাস এবং বিভিন্ন শর্তে তাদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা নেন ওই দম্পতি। এর মধ্যে শুকুর হাজীর কাছ থেকে মিল ভাড়া দেওয়ার কথা বলে নগদ ৭২ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কিছুদিন পরই শুকুর হাজীসহ অন্যদের জোরপূর্বক মিল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একের পর এক মিথ্যা মামলা করা হয়। পাশাপাশি ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় তদবিরের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন শাহানাজ বেগম ও তার স্বামী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শহীদুল্লাহ সরকারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহানাজ বেগম। তার ভাষ্য, ‘তাদের কাছে কেউ কোনো টাকা পাবে না। বরং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে।’ তিনি প্রতিবেদককে আপাতত সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘সংবাদ প্রচার হলে চাকরির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।’
এদিকে ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাহানাজ বেগম ও শহীদুল্লাহ সরকারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করার সাহস কেউ পাবে না।



