ডিজেল সংকটে মাদারীপুরের চাষিরা, বোরো নিয়ে শঙ্কা

বোরো ধানের ভরা মৌসুমে মাদারীপুরে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ও ডিপোগুলোতে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজারো প্রান্তিক কৃষক।
সেচ পাম্প চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। ফলে জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে এবং ধানের গাছে দেখা দিচ্ছে লালচে ভাব। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা এলাকার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ডিজেলের অভাবে কৃষকরা জমিতে যন্ত্রচালিত সেচ দিতে না পেরে কেউ কোদাল দিয়ে চাষ করছেন, কেউবা সামান্য তেল জোগাড় করে সীমিতভাবে কাজ চালাচ্ছেন। অনেকেই আবার অসহায়ের মতো জমি ঘুরে দেখছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে কোথাও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও অল্প পরিমাণে মিললেও তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ১০০ টাকার ডিজেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈদের আগে থেকেই এ সংকট চলছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় কৃষক হাবিব মাতুব্বর বলেছেন, ধানের পাশাপাশি প্রায় ২ একর জমিতে পাট চাষ করেছি। কিন্তু ডিজেল না থাকায় সেচ দিতে পারছি না। এখন পানি না দিলে বীজ গজাবে না, বড় ক্ষতির মুখে পড়বো।
অন্য কৃষক বলাই চন্দ্র বৈরাগী জানান, একাধিক পাম্পে ঘুরেও ডিজেল পাননি, পরে কষ্ট করে মাত্র ২ লিটার সংগ্রহ করেছেন। একই এলাকার সিরাজ মহাজন বলেছেন, এক মাস ধরে ঠিকমতো তেল না পাওয়ায় তার দুই একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
এদিকে জেলার ১৪টি তেল পাম্পের এজেন্টরাও চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। পাম্পমালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় তারা প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম ডিজেল দিতে পারছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুরে মোট ২০ হাজার ২২৫টি সেচ পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ডিজেলচালিত। চলতি মৌসুমে আড়াই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যেখানে প্রায় ১০ হাজার ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার হচ্ছে।
ইউসুফ ফিলিং স্টেশনের মালিক ইউসুফ আলী মাতুব্বর বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় কৃষকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. রহিমা খাতুন জানান, কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে এবং অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম জানিয়েছেন, ডিজেল বিক্রির দোকানগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো পাম্পে তেল মজুদ রেখে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

