মামলা নিতে পুলিশের টাকা চাওয়ার অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত কিশোর মো. জোবায়েরের মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ তোলেন তারা।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জোবায়েরের মরদেহ বন্দরে পৌঁছালে শত শত মানুষ থানার সামনে অবস্থান নেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হামলার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া মামলা করতে থানায় গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। এমনকি মামলার প্রক্রিয়ায় চাওয়া হয়েছিল অর্থও।
নিহতের প্রতিবেশী টিপু দাবি করেন, মামলা করতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর মিয়ার এক বন্ধুর কাছে টাকা চাওয়া হয়। দাবি করা টাকা দিতে না পারায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন রাত সোয়া ৯টার দিকে দিনমজুর ও অটোরিকশাচালক জোবায়ের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সোনাকান্দা এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে ওত পেতে থাকা কয়েকজন ছিনতাইকারী তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করার পর হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা জোবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল রবিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার রাতে জাহাঙ্গীর মিয়া হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের দাবি, সময়মতো মামলা গ্রহণ ও অভিযান চালানো হলে হয়তো অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো।
বিক্ষোভের মুখে বন্দর মডেল থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। তার ভাষ্য, এলাকাবাসীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তারা থানা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে মামলা করতে এসে টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তার জানা নেই।
ওসি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জোবায়েরের পরিবারের পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডে এখনো মামলা না হওয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার বিরুদ্ধে থাকা অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরিবার মামলা করলে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।





