বরিশালে ১৮ মৃৎশিল্পীকে সম্মাননা

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সংরক্ষণ, প্রসার এবং এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা।
আজ শনিবার দুপুরে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা দেওয়া হয়।
তাদের মধ্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ ইউনিয়নের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন পাল।
মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা বরিশালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কনিষ্ঠ পুত্র ও শিল্পানুরাগী প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ।
সম্মেলন উপলক্ষে সকালে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য ও স্বতন্ত্র কারুশৈলী তুলে ধরা হয়। এ সময় মৃৎশিল্পীদের হাতে তৈরি মাটির পাত্র, মনসার ঘট, পুতুল, শখের হাঁড়ি, মাটির খেলনা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পসামগ্রীর নমুনা প্রদর্শন করা হয়। এসব শিল্পকর্ম দেখতে সম্মেলনে আসেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মৃৎশিল্পীরা সম্মাননা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক পণ্যের বিস্তার এবং মাটির তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আর্থিক সহায়তা এবং মৃৎশিল্পীদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সম্মেলনে আসা দর্শনার্থীরাও এ আয়োজনকে ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আয়োজিত এ সম্মেলন নতুন প্রজন্মকে মাটির তৈরি শিল্পসামগ্রী ও দেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দর্শনার্থীরা বলেন, শুধু সম্মেলন বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মৃৎশিল্পীদের পণ্যের প্রচার, বিক্রির সুযোগ সৃষ্টির আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সম্মেলনে গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অতিথিরা বলেন, মৃৎশিল্প বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রজন্মের শ্রম, সৃজনশীলতা ও জীবন-জীবিকা। তাই ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ানো জরুরি।
তাদের মতে, মৃৎশিল্পীদের সম্মাননা প্রদান এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এ শিল্পের প্রচার ও প্রসারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলার মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরতেও এ ধরনের সম্মেলন ভূমিকা রাখবে।




