নেত্রকোনা
শিশুর লাশ উদ্ধারের পর অপমৃত্যুর মামলা, অনুসন্ধানে মিলছে ‘হত্যা’

শিশু আবু সুফিয়ান রাফির
নেত্রকোনা সদরের মেদনী ইউনিয়নের পশ্চিম উলুয়াটি গ্রামের শিশু আবু সুফিয়ান রাফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল বাড়ির কাছের একটি জলাশয় থেকে। গত ২৬ জুনের ওই ঘটনায় থানায় হয়েছিল অপমৃত্যুর মামলা। পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল শিশুটির মরদেহ। এরপর অনেকটা আড়ালেই চলে যায় রাফির মৃত্যুর ঘটনা।
কিন্তু ঘটনার দুই মাস ২৫ দিন পর নেত্রকোনাে এক সাংবাদিকের কাছে এসেছে একটি কল রেকর্ড। এরপর অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়। রাফির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত রুপা আক্তারের সঙ্গে তার স্বামী আবু রায়হানের কথোপকথনের রেকর্ডে উঠে এসেছে শিশুটিকে গলা চেপে হত্যা করা হয়।
রেকর্ডটি করেছেন আবু রায়হান, যিনি সম্প্রতি কাতার থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি নিজেও কথোপকথনে উঠে আসা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কল রেকর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, রাফি রুপা আক্তারের বাড়ির ছাদে তার চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে শিশুর ধাক্কায় রাফি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। এরপর রুপা নিচে গিয়ে রাফির গলা চেপে ধরেন এবং মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ জলাশয়ে ফেলে আসেন—এমন বর্ণনা রয়েছে রেকর্ডে।
কল রেকর্ডের বিষয়টি পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ জানায়, রেকর্ডটি তদন্ত করে দেখা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগে অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতা, প্রশ্ন সনদ নিয়েও
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয়রা জানান, তখন ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হলেও কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। ছয় বছরের রাফি উচ্চতায় প্রায় তিন ফুট। এমন একটি ছেলে এক থেকে দেড় ফুট গভীরতার পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে জলাশয়ের অল্প পানিতে শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
কাতার থেকে সদ্য দেশে আসা আবু রায়হানের বক্তব্য, অপরাধ যে-ই করে থাকুক, তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ না পায়।
অপরদিকে কলে হত্যার বর্ণনাকারী রূপা আক্তারের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমাকে আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফাঁসাতে চাচ্ছে। আমাকে যখন এলাকাবাসী সন্দেহ করে তখন আমার স্বামী আমাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। আমি তখন তাকে বলেছিলাম যদি আমি খুন করেও থাকি তুমি আমাকে বাঁচাইও। আমার দুইটা সন্তান আছে। আমার স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক। আমাকে পরিবার থেকে বের করার উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে।
রুপা আক্তারের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, এর আগেও তিনি তার দেবরকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি ননদের শিশু কন্যার গায়ে ফুটন্ত পানি ঢেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার লক্ষণ পাওয়া গেছে। ছাদ থেকে পড়লে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যেত। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টেও আঘাতের কোনো উল্লেখ নেই।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, লাশ উদ্ধারের পর অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এখন যে কল রেকর্ডটি পেয়েছি তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




