যুবদল নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা ছিনতাই মামলা

ছবি: আগামীর সময়
জয়পুরহাটের নতুন হাট গোহাটিতে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রতিবাদ করায় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. মোক্তাদুল হক আদনানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাকে মারধর করে নগদ ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর গতকাল রবিবার রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগী আদনান বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় একটি মামলা করেছেন।
মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ও হাটের ইজারাদার শামস মতিনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মামুন ওরফে ঘোড়া মামুন, সাদাত মতিন, যুবলীগ নেতা মিলন, কানা জুয়েল ও আমিনুল। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় আদনান জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে ‘অধ্যক্ষ শামছুল হক ফাউন্ডেশন’-এর জন্য গরু কিনতে নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে নতুন হাটে যান মোক্তাদুল হক আদনান। সেখানে সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিরুদ্ধে হাটের মাইকে প্রতিবাদ জানান তিনি।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা তার গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইজারাদার শামস মতিন সামুরাই এবং ঘোড়া মামুন পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। তবে হামলাকারীরা তাকে লোহার রড, কিল ও ঘুষি দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করেন এবং তার পকেটে থাকা ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এদিকে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিবের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে জয়পুরহাট শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে যুবদল নেতারা হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা মূল আসামি শামস মতিন ও মামুনসহ সব অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
জয়পুরহাট থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।






