ভারতে আগুনে মৃত্যু, মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুজনের বাড়ি তারালী ইউনিয়নের বরেয়া ও তেঁতুলিয়ায়। প্রিয়জন হারানো স্বজনদের এখন একটাই আকুতি- দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক মরদেহ।
আজ বৃহস্পতিবার বরেয়া গ্রামে নিহত আলিমুজ্জামান সাজুর (৪৫) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ি। বড় ভাই, ভাবিসহ পরিবারের সদস্যরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
আলিমুজ্জামান সাজু মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসার জন্য পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে যান তিনি।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেছেন, ৫-৬ দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে। পরে জানতে পারি, হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান করছিল। একজন আত্মীয়কে সেখানে পাঠানো হয়। পরে ছবির সঙ্গে মরদেহের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমার ছোট ভাই আর নেই।
তিনি বলেন, সরকারের কাছে আকুতি আমার ভাইয়ের মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের দেওয়া হয়। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।
এই বছর হচ্ছে না বিপিএল
২০ আগস্ট ২০২৬
অন্যদিকে, একই অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে তালা ঝুলছে। চারপাশে নীরবতা। পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় বাড়িটি যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে।
রেবতীর স্বজন তপন সরকার জানিয়েছেন, গতকাল রাতে বৌদির ছেলের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর খবর জানতে পারি। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন। তবে এখন তার সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
চিকিৎসার জন্য প্রিয়জনদের ছেড়ে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু ও রেবতী। পরিবারের আশা ছিল, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরবেন তারা। কিন্তু সেই অপেক্ষা এখন পরিণত হয়েছে মরদেহ ফেরার অপেক্ষায়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেছেন, ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে মরদেহ দুটি দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।







