হান্নান মাসুদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী ছিল

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাসিবাদী আমলের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে মুক্তি মিললেও রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ। তিনি আরও বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে পুরোনো ব্যবস্থার গণ্ডিতে আটকে থেকে দলীয় রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন ও অভিনন্দন জানাতে বাধ্য হতে হয়েছে। তার ভাষ্য, এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ভুল হয়েছে এবং এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী ছিল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে লক্ষ্মীপুরে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এনসিপির জেলা শাখার আয়োজনে লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ টুর্নামেন্ট।
হান্নান মাসুদ বলেন, ‘আমরা হয়তো ফ্যাসিবাদী আমলের সেই শাহাবুদ্দিন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু আমরা আসলে সিস্টেম থেকে মুক্তি পাইনি। হাসিনার আমলের ৭০ অনুচ্ছেদের গ্যাঁড়াকলে পড়ে আমরা সেই সিস্টেমের গ্যাঁড়াকলে পড়েছি। আরেকটা দলীয়, একদলীয় রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন-অভিনন্দন জানাতে বাধ্য হয়েছি এবং এটা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী ছিল। এটাতে অংশগ্রহণ করা আমরাও হয়তোবা ভুল করেছি।’
ভবিষ্যতে রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা যে পরিবর্তন চেয়েছি, ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে এবং উচ্চ কক্ষ, নিম্ন কক্ষ গঠন করে সরাসরি গোপন ভোটের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা, নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা, রাষ্ট্রের অভিভাবক নির্বাচন করা, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং সর্বদলের আকাঙ্ক্ষা। এটা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সামনে থেকে কাজ করে যেতে হবে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে হান্নান মাসুদ বলেন, ‘আমাদের মুক্তিটা শুধুমাত্র হাসিনার বিরুদ্ধে ছিল না। আমাদের প্রত্যেকটা জেনারেশনকে জানাতে হবে, এ লড়াইটা ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে রাখতে পারেনি। কারণ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিল না। হাসিনা ছিল ভারতের প্রতিনিধি। সে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশের মানুষকে ভারতের দাস বানিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ কিংবা হাসিনার পতন ঘটাইনি, বরং ভারতীয় আধিপত্যবাদের পতন ঘটিয়েছি।’
ভারতের হুমকি-ধমকির প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এ নেতা মন্তব্য করেন, ‘আমরা মূলত এ অঞ্চল এবং মাথা উঁচু করে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম। ভারত যতই হুমকি-ধমকি দিক, অনেক কিছু করে ফেলবে, উল্টায়ে ফেলবে বাংলাদেশে, আসলে কিছুই করতে পারবে না। কারণ তারা তাদের ক্রীতদাস শেখ হাসিনাকে বাঁচাইতে পারেনি, তারা কীভাবে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।’
এনসিপি জেলা কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন। এছাড়াও ছিলেন লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক জেলা আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামলী সুলতানা জেদনী, ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইউসুফ আল মাহমুদ, শহীদ সাব্বিরের পিতা আমির হোসেন ও শহীদ বিজয়ের পিতা ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে।







