রাকাবের ডিজিএমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) প্রধান কার্যালয়ের আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী কার্যালয় থেকে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত ও প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরিফুজ্জামান আইসিটি বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্প ও বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম করে আসছেন। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে এর আগে তাকে শাস্তিমূলকভাবে রংপুরে বদলি করা হয়েছিল।
এছাড়া ভ্রমণ না করেও ভুয়া ভ্রমণ বিল তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রংপুরে কর্মরত থাকাকালীনও আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারীঘটিত একাধিক অভিযোগ ওঠে। সেখানে একবার অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবস্থায় ধরা পড়ার পর প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
এছাড়া কর্মস্থলে কয়েকজন নারী সহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অফিসের কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন।
আরিফুজ্জামান ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) প্রভাবিত করে অবৈধ পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও ব্যাংকের কিছু কর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক মো. সাদিউল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামত দিতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামান জানান, এই বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। বিষয়টি আপনারা তদন্ত করে দেখলেই বুঝতে পারবেন। যারা আর্থিকভাবে সুবিধা করতে পারেননি, তারাই এসব অভিযোগ করছেন।
এদিকে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোরতজা বলছিলেন, আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় করা হচ্ছে।
‘আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। তাই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে ইতোমধ্যে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে’ বলছিলেন ঐ পরিচালক।

