১৫ গ্রামের মানুষের ভরসা ৭০০ ফুট বাঁশের সাঁকো

ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনার শাখা নদী চেত্রা। স্বাধীনতার এত বছরেও নদীর ওপর নির্মাণ হয়নি কোনো সেতু। নিত্যদিন ভোগান্তিতে দুই ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের লাখের বেশি মানুষ।
হাওর ও নদীবেষ্টিত এই জনপদের বাসিন্দাদের নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা ৭০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো। সেতু না থাকায় রানীদিয়া, পরমানন্দপুর, বারইপাইকা, রাজাপুর, ফতেপুর, অরুয়াইল, পাকশিমুল ও কাকরিয়াসহ ১৫ গ্রামের লোকজনের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তি।
এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যবসায়ীক গন্তব্য অরুয়াইল বাজার। গ্রামগুলো ছাড়াও পাশ্ববর্তী ভৈরব ও বাজিতপুরের কয়েকটি গ্রামের মানুষও এখানে আসেন। সকলের একমাত্র পথ নড়বড়ে সাঁকোটি। যুগ যুগ ধরে স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। তবে এ পর্যন্ত তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে রানীদিয়া গ্রামের রহমত আলী ও মজর মিয়া নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথমে বিশাল এই সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর নভেম্বর মাসে স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে সাঁকোটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে বছরের প্রায় ৭ মাস সাঁকোটি ব্যবহার হয়। তবে জুনের মাঝামাঝি নদীর পানি বাড়লে ভেঙে ফেলা হয় সাঁকোটি। তখন নৌকাই হয়ে উঠে ভরসা।
অরুয়াইল পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ও লোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ জানান, ‘নদীর দক্ষিণপাড়ের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের ইউনিয়ন সদরে অবস্থিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিতে হচ্ছে।’
সাঁকো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। পণ্য সামগ্রী বহন ও শিক্ষার্থীদের পারাপার ফ্রি থাকলেও অন্যদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে আদায় করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. শাহআলম বললেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে নদীর পানির পরিমাপ ও প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করে গেলেও কাজের বাস্তব কোনো অগ্রগতি আজ পর্যন্ত মিলছে না।’
অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার ভাষ্য, ‘সাঁকোটি দিয়ে ১৫ গ্রামের মানুষের যাতায়াত। ইতিমধ্যে দুইবার প্রকল্পের পরিচালক সরজমিনে এসে স্থানটি দেখে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখছি না।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামেরও একই ভাষ্য। বিভিন্ন সময়ে এলজিইডির জেলা ও ঢাকা কার্যালয় থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসে নদীর অবস্থা দেখে গেলেও সেতু নির্মাণের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই।




