একই পরিবারের ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণা

সংগৃহীত ছবি
ছেলেকে ইতালি পাঠানোর স্বপ্নে জীবনের সঞ্চয়, ব্যাংকঋণ ও ধারদেনা মিলিয়ে ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব শ্রীনাথদী গ্রামের বাসিন্দা মামুন খন্দকার। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি যে ভিসা ও কাগজপত্র পান, ইতালীয় দূতাবাসে যাচাই করে সেগুলো জাল বলে জানতে পারেন। এ ঘটনায় বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে একই পরিবারের ১২ জনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদারীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে মামুন খন্দকার ইতালি পাঠানোর উদ্যোগ নেন ছেলে মইন খন্দকারকে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৫ আগস্ট প্রথম দফায় অভিযুক্তদের হাতে ২৫ লাখ টাকা তুলে দেন মামুন খন্দকার। পরে বিদেশে পাঠানোর বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে নেওয়া হয় আরও অর্থ। একই বছরের ২০ নভেম্বর ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫০ হাজার এবং ২৮ ডিসেম্বর আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। ২০২৩ সালের মে মাসে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইতালির কথিত একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাঠিয়ে দ্রুত ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু ওই বছরের ২৮ আগস্ট ইতালীয় দূতাবাসে কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে মামুন খন্দকার জানতে পারেন, তাকে দেওয়া ভিসা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের কোনো সত্যতা নেই।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কাবিল ফকির, মজিবর ফকির, হাবিবুর রহমান ফকির, রহমান ফকিরসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং আরও কয়েকজন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অর্থ লেনদেনে ব্যবহার করা হয়েছে এক আসামির স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব। কয়েকজন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও বিদেশে পাঠানোর দালালির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ইয়াসমিন নামে এক নারী জানালেন, তার স্বামীকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বললেন, বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। এ বিষয়ে একাধিক সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সালিশকারী বোরহান সিকদার।
মামুন খন্দকার বললেন, ‘ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবকিছু বিক্রি করে ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন ছেলে বিদেশেও যেতে পারেনি, পড়াশোনায়ও পিছিয়ে গেছে।’
তবে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান ফকির ও রহমান ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে জানালেন, বিদেশে কাউকে পাঠানোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অভিযুক্ত তানিয়া আক্তার জানিয়েছেন, তার স্বামী আগে কিছু লোককে ইতালি পাঠিয়েছিলেন, পরে স্পন্সর ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হয়।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘আদালতের নির্দেশ বা তদন্তের দায়িত্ব পেলে অভিযোগের প্রতিটি বিষয় যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বললেন, ‘মানব পাচার ও বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’






