আগামীর সময়

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে দাউদকান্দিতে দৌড়ঝাঁপ

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে দাউদকান্দিতে দৌড়ঝাঁপ

ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা তফসিলের আভাস মেলেনি এখনো। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ পেতে এরই মধ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম প্রচার। দলের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত প্রার্থীরা। প্রার্থিতার জানানও দিতে শুরু করেছেন অনেকে। 
এসব নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায়। কে হচ্ছেন আগামীর উপজেলা চেয়ারম্যান, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে জল্পনা-কল্পনা। সবচেয়ে আলোচনায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের নিয়ে রাত-দিন চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

​দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাবশালী চার হেভিওয়েট নেতার নাম এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। 

এর মধ্যে আছেন আলহাজ আবুল হাসেম। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গৌরীপুর ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। প্রবীণ এই রাজনীতিককে দাউদকান্দি বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারি মনে করা হয়। নেতাকর্মীদের মতে, পতিত আওয়ামী লীগ আমলে দেশে যখন নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না, তখন সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আবুল হাসেম; জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছিলেন তিনি। চারবার ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক আবুল হাসেমকে দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছেন এলাকার নেতাকর্মীরা।

এর পরেই উচ্চারিত হচ্ছে দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম এ লতিফ ভূঁইয়ার নাম। দলের চরম দুঃসময়ে তিনি দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আর্থিক অবদান। এ সবকিছুই আন্দোলন সফল করায় ব্যাপক ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। তার নেতৃত্বে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়। তার বিরুদ্ধে নেই কোনো দুর্নীতি বা কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ। গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে তার ভূমিকা ছিল বেশ কার্যকর। সাংগঠনিক দক্ষতা ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে লতিফ ভুঁইয়া এখন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের আলোচিত প্রার্থী। সম্প্রতি নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণাও করে ফেলেছেন।

মনোনয়নে দৌড়ে পিছিয়ে নেই দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সেক্রেটারি ​সাইফুল আলম ভূঁইয়া। ২০১৮ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। দলের চরম দুর্দিনে সেসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ আমলে একাধিক মিথ্যা মামলায় উঠেছিল তার নাম। এলাকায় তিনি পরিবহন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। 

‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিলে আমি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত আছি এবং দাউদকান্দি উপজেলাবাসীর সেবক হতে চাই’- প্রত্যাশা জানালেন সাইফুল আলম।

চেয়ারম্যান পদের মনোনয়ন পেতে সমানতালে প্রচার চালাচ্ছেন তরুণ নেতা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রোমান খন্দকারও। তৃণমূলের চোখে  ত্যাগী নেতৃত্বের প্রতীক তিনি।  স্থানীয় কর্মীদের ভাষ্য, পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দাউদকান্দিতে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। নাম উঠেছে ৪০টিরও বেশি মিথ্যা মামলায়। এক বছর কারাবন্দিও ছিলেন তিনি। চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রভাগে থেকে প্রতিটা কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে তার ভূমিকা এবং মাঠ আগলে রাখায় তৃণমূলের তরুণ নেতাকর্মীদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক।

​তৃণমূলের সমীকরণ ও প্রত্যাশা

​স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, দাউদকান্দির রাজনীতিতে দলীয় পদ-পদবির ভার নয়, বরং অতীতের ত্যাগ, রাজপথের সক্রিয়তা এবং দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকার বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে যারা জেল-জুলুম সহ্য করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অটল ছিলেন এবং প্রতিকূল সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের প্রতি রয়েছে তৃণমূলের সমর্থন।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন বিএনপির জন্য কেবল একটি স্থানীয় নির্বাচন নয়, এটি তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা ও ত্যাগী নেতৃত্ব প্রমাণের এক বড় মঞ্চ। শেষ পর্যন্ত দল কাকে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

    শেয়ার করুন: