খুলনায় নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না কৃষ্ণ নন্দীসহ ১৫ প্রার্থী

সংগৃহীত ছবি
রাত পোহালেই সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন দলের মোট ৩৮ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন প্রার্থী নিজের ভোট নিজেকে দিতে পারছেন না। তাঁরা যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেই আসনের ভোটার নন।
এই ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির দুজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে খুলনা-১ আসনের ৪ জন, খুলনা-৩ আসনের ৭ জন, খুলনা-৫ আসনে ২ জন এবং খুলনা-৪ ও খুলনা-৬ আসনের ১ জন করে প্রার্থী রয়েছেন।
এবার খুলনায় বিএনপির ছয়জন, জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। জাতীয় পার্টি চারটি আসনে, সিপিবি তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। খেলাফতে মজলিস, ইসলামী ফ্রন্ট, জেএসডি, বাসদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদ ও এনডিএম একটি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী।
যেসব প্রার্থী নিজেকে ভোট দিতে পারছেন না
খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী খুলনা-৫ আসনের চুকনগরের দিব্যপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার। গণ অধিকার পরিষদ থেকে ট্রাক প্রতীকের জি এম রোকনুজ্জামান ঢাকা-১২ আসনের নয়াটোলা আনওয়ারুল উলুম নোমানিয়া কামিল মাদ্রাসা কমপ্লেক্স কেন্দ্রের ভোটার। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে রকেট প্রতীকের প্রবীর গোপাল রায় ঢাকা-১১ আসনের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বনশ্রী পূর্ব রামপুরা কেন্দ্রের এবং বাংলাদেশ সম অধিকার পার্টি (বিইপি) থেকে দোয়াত-কলম প্রতীকের সুব্রত মণ্ডল বাগেরহাট-৩ আসনের মিঠাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নিতাখালী কেন্দ্রের ভোটার।
খুলনা-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আউয়াল খুলনা-২ আসনের পশ্চিম বানিয়াখামার দারুল কুরআন বহুমুখী মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোটার, এই আসনের বাসদ মনোনীত মই প্রতীকের প্রার্থী জনার্দন দত্ত ঢাকা-১৬ আসনের বর্ধিত পল্লবীর পল্লবী আফতাব উদ্দীন মাদ্রাসার ভোটার, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন খুলনা-২ আসনের চানমারী বাজারের আহমদিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং কেন্দ্রের ভোটার। এনডিএমের সিংহ প্রতীকের শেখ আরমান হোসেন খুলনা-৫ আসনের উত্তর শিরোমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার। ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন মোহাম্মদ মায়াজ ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা কেন্দ্রের, জাহাজ প্রতীকের আবুল হাসনাত সিদ্দিক খুলনা-২ আসনের শহীদ সোহরাওয়ার্দী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের এবং ঘুড়ি প্রতীকের মুরাদ খান লিটন খুলনা-২ আসনের এইচ আর এইচ প্রিন্স আগাখান মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার।
খুলনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের এস এম আজমল হোসেন ঢাকা-৭ আসনের ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী উচ্চবিদ্যালয়, আজিমপুর রোড, ঢাকা কেন্দ্রের ভোটার। খুলনা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি খুলনা-২ আসনের সেন্ট যোসেফস উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের শামিম আরা পারভীন খুলনা-২ আসনের পল্লীমঙ্গল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার। খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান খুলনা-৪ আসনের রূপসা জেবিএম উচ্চবিদ্যালয় মৈশাঘূণী কেন্দ্রের ভোটার।
বিএনপির প্রার্থীরা যে কেন্দ্রের ভোটার
খুলনা-১ আসনের আমীর এজাজ খান বটিয়াঘাটার খারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার, খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরের টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম বকুল খালিশপুরের মাওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ (গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ) স্কুল ভবন কেন্দ্রের, খুলনা-৪ আসনের আজিজুল বারী হেলাল রূপসার আইচগাতির সৈয়দ আরশাদ আলী অ্যান্ড ছবুরন্নেছা গার্লস কলেজ কেন্দ্রের ভোটার। খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি নগরের সেন্ট যোসেফস উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের এবং খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান রূপসার জেবিএম উচ্চবিদ্যালয় মৈশাঘূণী কেন্দ্রের ভোটার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোনো আসনের ভোটার না হয়েও প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা দলীয় কৌশল ও স্থানীয় সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এতে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর সামাজিক ও রাজনৈতিক সংযোগ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এবারের নির্বাচনে অন্তত দুটি আসনে ‘বহিরাগত প্রভাব’ পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।

