তুরাগে ২ দিনে ৩ লাশ, রাজনৈতিক পরিচয়কে গুজব দাবি পুলিশের

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার তুরাগ নদী থেকে দুই দিনে তিন মরদেহ উদ্ধারে খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মীর লাশ নদীতে ভেসে ওঠার গুঞ্জনের মধ্যে আজ এ তথ্য জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে মৃতরা আওয়ামী লীগের কেউ নন- দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আলাদা তিনটি মামলা হয়েছে সাভার, আশুলিয়া ও দারুস সালাম থানায়।
পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমে মৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্য গুজব, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান তাদের।
আজ রবিবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ, আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এবং আমিনবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হুমায়ুন কবির।
মৃতরা হলেন— ঢাকার তুরাগের রানাভোলা এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. সুমন, একই এলাকার আরিফ এবং রাজধানীর মনিপুর মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা রনি মোল্লা (৩৫)।
রনির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন দুপুরে তিনি রয়েল সিটি খেয়াঘাট এলাকায় তুরাগে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
রনির বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন, রনি দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে ছিলেন এবং উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলে কাজ করতেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার ভাষ্য, রনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ বলেছেন, গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর স্থানীয়রা রনির মরদেহ উদ্ধার করেন।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২৫ জুন রাতে স্থানীয়দের খবরে আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন তুরাগের তীর থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বন্ধুদের সঙ্গে ট্রলারে ঘুরতে গিয়ে তিনি নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। সুমন সাঁতার জানতেন না বলেও জানা গেছে।
সুমনের পরিবার এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশের তথ্য, তিনি ২২ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
আমিনবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বুধবার সকালে দারুস সালাম থানার গাবতলী এলাকায় তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হয় আরিফ নামের আরেক যুবকের মরদেহ। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
আরিফের চাচা আরশাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২২ জুন বিকাল ৪টা থেকে আরিফ নিখোঁজ ছিলেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তারা জানেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে না চাইলেও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।





