সাবেক মেয়র আইভীর বাড়ি গিয়ে চাকরি হারালেন নাসিক কর্মচারী

জামিনে মুক্ত হওয়া সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেখতে যাওয়ায় ছাঁটাইয়ের অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এক কর্মচারী। ছাঁটাইয়ের তথ্য নিশ্চিত করলেও কারণ ভিন্ন বলে জানালেন সিটি করপোরেশন প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় আইভীর বাড়ি চুনকা কুটিরের পাশের বাড়িতেই থাকেন টরিক আহমেদ।এক যুগ ধরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কাজ করছিলেন তিনি। আগে ছিলেন মশক নিধন বিভাগের সুপারভাইজার। সবশেষ ছিলেন চুক্তিভিত্তিক পিয়ন।
টরিকের ভাষ্য, আইভীর বাসায় আগে বাজার-সদাই করে দিতেন তিনি। এ কাজের জন্য সেখান থেকে দেওয়া হতো বেতনও। জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরলে, গত বুধবার রাতে আইভীর বাসায় দেখা করতে যান তিনি। সেখানে ছবি তুলে পোস্ট করেন ফেসবুকে। পরদিন তাকে ডেকে পাঠান সিটির প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন। আইভীর বাসায় যাওয়া ও ছবি তোলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
টরিকের অভিযোগ, ‘ওই বাসায় যাওয়ার কথা স্বীকার করায় প্রশাসক আমাকে আইভীর কাছ থেকে বেতন নিতে বলে ছাঁটাই করে দেন।’
ছাঁটাইয়ের কারণ এটি নয় বলে দাবি প্রশাসক সাখাওয়াতের। তার কথা, ‘সাবেক মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করায় নয়, অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’
গত ৩ জুন রাত ১০ টায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান নারায়ণগঞ্জ সিটির তিনবারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। রাত সাড়ে ১২টায় দেওভোগের বাড়িতে এলে তাকে ঘিরে ধরেন স্বজন ও সমর্থকরা।
আইভীর মুক্তির খবরে রাত থেকেই ‘চুনকা কুটির’ এর সামনে জড়ো হতে থাকে লোকজন। মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নেন সতর্ক অবস্থান। বাড়ির আশপাশে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা।
এর কারণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদীর ব্যাখ্যা, ‘যেহেতু তিনি একজন সাবেক মেয়র, তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। তা ছাড়া উনি নিজে যেন নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়েন, কিংবা তার পক্ষে কেউ যেন উসকে না দেয়— সেটিও আমাদের নজরদারিতে আছে। এজন্য সাদা পোশাকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে।’
‘আইভী জামিনে থাকাবস্থায় তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সার্বিক বিষয়েই আমাদের নজরদারি থাকবে’- যোগ করেন তিনি।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশের প্রথম নারী মেয়র আইভী। পরে চব্বিশের জুলাইয়ের হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।






