কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পাওয়া দুই আসামি কারাগারে

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি— সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার দুই আসামি খাজা আহম্মেদ ও আসাদুজ্জামান। শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ এনায়েতুল কবির তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামির মধ্যে প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ দৌলতপুরের ফিলিপনগর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে এবং কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। অন্য আসামি আসাদুজ্জামান একই উপজেলার হোসেনাবাদ গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপেরের ফিলিপনগরে পীর শামীম রেজার দরবারে হামলা চালায় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। হামলাকারীরা দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানোর পাশাপাশি পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনার দুদিন পর, ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরের ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। গত ১০ এপ্রিল রাতে কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে ১১ এপ্রিল সকালেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একটি দল দরবার এলাকায় অবস্থান নিলেও দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ওই দিন বেলা আড়াইটার দিকে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই দরবার এলাকায় হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন পীর শামীম। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে পৌঁছানোর ৫ মিনিটের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।




