খরতাপে জমে উঠেছে জীবননগরের আমের বাজার

ছবি: আগামীর সময়
জৈষ্ঠ্যের খরতাপে জমে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আমের বাজার। হিমসাগর, তিলে বোম্বাই, গোপালভোগ, হাঁড়িভাঙ্গা, ক্ষীরশাপাতি, আম্রপালি, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন জাতের আমে ভরে গেছে বাজার। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন শত শত মন আম কিনতে আসছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।
সরেজমিনে জীবননগরের পেয়ারাতলা, আন্দুলবাড়িয়া ও হাসাদাহ ফলের আড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে, জীবননগর ও আশপাশের উপজেলার চাষিরা বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে বাজারে আনছেন। পাখিভ্যান, করিমন, আলমসাধু, পাওয়ার ট্রলি ও পিকআপে করে আম পরিবহন করা হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দরদাম করে আম কিনছেন। বাজারে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে হিমসাগর জাতের আম।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমের মৌসুম পুরোদমে শুরু হলেও এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা বাড়েনি। ঈদের পর বাজার আরও জমে উঠবে বলে তারা আশা করছেন।
বর্তমানে হিমসাগর আম আকার ও মানভেদে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিলে বোম্বাই বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে। এ ছাড়া অন্যান্য আঁটির আম ৬০০-৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেয়ারাতলা ফল বাজারের আন্দুলবাড়িয়া ফল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী বক্তিয়ার ফিরোজ জানিয়েছেন, বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি হিমসাগর আম এসেছে। আম্রপালি ও মল্লিকা জাতের আম আরও কয়েক দিন পর বাজারে আসবে। বর্তমানে ক্রেতা কম থাকলেও ঈদের পর বেচাকেনা বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
মামা-ভাগনে ফল ভান্ডারের ম্যানেজার সম্রাট হোসেন বলেছেন, চাষিরা বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে আড়তে নিয়ে আসেন এবং আড়তদাররা সেগুলো ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরায় একই দিনে আম সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ায় অনেক ব্যাপারী সাতক্ষীরা থেকে আম কিনছেন। সংগ্রহের সময় আলাদা হলে জীবননগরের বাজারে আরও বেশি ক্রেতা আসত।
মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের আমচাষি সবুজ হোসেনের ভাষ্য, মৌসুমের শুরুতে প্রচুর মুকুল এলেও বৈরী আবহাওয়ায় অনেক গুটি ঝরে গেছে। এতে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় আমের দাম বাড়েনি। তিনি জানান, রোববার ২০ মণ হিমসাগর আম বাজারে আনলেও এখনো বিক্রি হয়নি।
ঢাকা থেকে আম কিনতে আসা ব্যাপারী ফজলু বলেছেন, জীবননগরের বাজারে প্রচুর আম আসে। চাষিরা এজেন্টদের কাছে আম রাখেন, সেখান থেকেই ব্যবসায়ীরা আম কেনেন। তার মতে, এবার আমের বাজার মোটামুটি ভালো হবে।
জানা গেছে, গত ১৩ মে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন গাছ থেকে আম সংগ্রহের অনুমতি দেয়। এর পর থেকেই জমতে শুরু করেছে জীবননগরের আমের বাজার।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৭৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১৫৫ টন।







