মাকে শেষ কথা জ্যোৎস্নার
‘আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’

‘জ্যোৎস্নাকে আমি বাসে তুলে দিয়েছিলাম। বাড়ি গিয়ে তার সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। তখন জ্যোৎস্না আমাকে বলে— ‘আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’। এরপর আর কোনো কথা শুনি নাই। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেল’—এটুকু বলেই অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাহেদা।
আজ বুধবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাটে মেয়ের লাশের জন্য অপেক্ষা করার সময় কথা হয় সাহেদার সঙ্গে। মেয়েকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন সাহেদা। তার কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।
‘মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়’—জানালেন সাহেদা।
ঈদের ছুটি শেষে বাসযোগে ৮ বছর বয়সী সন্তান আলিফকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন জ্যোৎস্না। দৌলতদিয়া ঘাটে বাস ডুবে যাওয়ার সময় ছেলে আলিফকে জানালা দিয়ে বের করে নিজেই তলিয়ে যান। ছেলে সাঁতার কেটে ওপরে আসতে পারলেও মা জ্যোৎস্না ফিরে আসেনি। ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। বাসে অন্তত যাত্রী ছিলেন ৪৫ জন।
এদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দুজনের। তবে এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩৩ জন। এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন।
‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— ৩৩ জনের মতো যাত্রীর মরদেহ পানির নিচে রয়েছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে’—জানালেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

