প্রধান শিক্ষকের পুনর্বহাল নিয়ে সংঘর্ষ, ১০ শিক্ষার্থীসহ আহত ১১ জন

লালমনিরহাটে সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে প্রধান শিক্ষকের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে প্রধান শিক্ষকসহ অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ৯ জনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং একজনকে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনোয়ারুল, হামিদুল, সিয়াম ও সামিউল এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেল।
স্থানীয়রা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম। তৎকালীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রও লিখে নেন।
দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেন। প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে গত মাস থেকে তারা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। এর অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেন তারা। পরে উপজেলা প্রশাসন প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বিদ্যালয়ে ফেরার নির্দেশ দেয়।
তবে স্থানীয় একটি পক্ষ এতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই পক্ষের বাধার কারণে কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়টিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে বহিরাগত ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাকে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আহত হন। খবর পেয়ে আদিতমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত শিক্ষার্থী মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আগে বুঝতে না পেরে প্রধান শিক্ষকের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু পরে যখন দেখলাম, তাকে ছাড়া বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, তখন তাকে পুনর্বহাল করতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসলে ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত এসে শিক্ষকসহ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা অনেকে আহত হয়েছি। আমরা প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহাল চাই। একই সঙ্গে বহিরাগতদের বিচার চাই।’
প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত একটি পক্ষ আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেয়। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে বহিরাগত ৪০ থেকে ৫০ জন এসে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আমাকে বাঁচাতে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমিসহ ১৩ জন শিক্ষার্থী অভিভাবক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।’ এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



