বর্ষণে দক্ষিণের ৩১০০ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

বন্যায় ক্ষতবিক্ষত ঢাকা-কক্সবাজার। ছবি : সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি আর বন্যার ঢলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কে। মহাসড়ক, জেলা সড়ক, গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার কাঁচা এবং প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক। অনেক জায়গায় সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও ভেঙে পড়ছে রাস্তার অংশ। সড়কসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং অনেক এলাকায় এখনো পানি না নামায় শুরু করা যাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারকাজ।
বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়ার লামছড়ি এলাকার বাসিন্দা ইউনুস মিয়া বললেন, তালতলী থেকে লামছড়ি পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক এখন হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। জোয়ারের সময় সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় পানি। কয়েকটি স্থানে রাস্তা ভেঙে চলে যাচ্ছে পাশের খালে। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বরগুনার বামনা উপজেলার বিষখালী নদীতীরের বাসিন্দা আফজাল হোসেনের ভাষ্য, ‘জোয়ারের পানি সড়ক পেরিয়ে ঢুকে পড়ছে বাড়িঘরে। এর সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে রাস্তার পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। গর্তগুলো পানিতে ঢেকে থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার বললেন, ‘বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নগরীর প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ধিত এলাকার সড়কগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দীর্ঘ সময় জমে থাকে।’
এলজিইডি বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রহমত-ই-খুদা জানালেন, তাদের আওতায় থাকা ১ হাজার ৩৪৪টি সড়কের প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯০০ কিলোমিটার পাকা এবং প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত কার্যকর সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
সওজ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের মন্তব্য, তাদের আওতায় বরিশাল বিভাগে ৩৫৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ২৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ২৩০ কিলোমিটার জেলা সড়ক। চলতি বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কের প্রায় ১১৯ কিলোমিটার বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।






