জয়পুরহাট
প্রকৌশলী ব্যস্ত, ইউপি ভাগ করে চালাচ্ছেন দুই সদস্য!

ছবি: আগামীর সময়
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। তার ব্যস্ততার সুযোগে পরিষদটি ভাগ করে চালাচ্ছেন দুই ইউপি সদস্য। কোনো লিখিত আদেশ ছাড়াই তারা 'প্রশাসকের নির্দেশে' সিল ব্যবহার করে নাগরিকত্ব, ওয়ারিশান, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষর করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার নাদিম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একাধিক মামলায় আত্মগোপনে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যান হোসনে আরা বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সদস্যদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অপসারণ করে তৎকালীন ক্ষেতলাল উপজেলা প্রকৌশলীকে আলমপুর ইউপির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় জেলা প্রশাসন। গত ২১ জুলাই নতুন উপজেলা প্রকৌশলী এস এম রাজিব হোসেন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে প্রশাসকের দায়িত্ব পান।
তবে বর্তমান প্রশাসক নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত হতে না পারায় পুরো ইউনিয়নের দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন দুই সদস্য। ইউপি সচিব নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিনুর রহমান পাঁচটি এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু রাসেল খন্দকার চারটি ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
নথিপত্রে দেখা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর একটি ওয়ারিশান সনদে শাহিনুর রহমান এবং ২৭ আগস্ট অপর একটি নাগরিক সনদে আবু রাসেল খন্দকার স্বাক্ষর করেছেন। উভয়ের স্বাক্ষরের নিচেই ‘প্রশাসকের নির্দেশে’ লেখা সিল ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে এভাবে দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষরের কোনো লিখিত আদেশ বা অনুমোদন তারা দেখাতে পারেননি। ইউপি সচিব ও দায়িত্বপালনকারী দুই সদস্যের দাবি, পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে বদলি হয়ে যাওয়া আগের প্রশাসক তাদের এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তবে তাদের কোনো আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা প্রকৌশলী এস এম রাজিব হোসেন বলেন, ‘আগের প্রকৌশলী প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন, সেই অনুযায়ী আমিও দায়িত্ব পেয়েছি। তবে ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে পারছি না। আগের প্রশাসক ওই দুই সদস্যকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী তারাই দায়িত্ব পালন করছেন।’
তবে প্রশাসকের এই ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক যাদব সরকার। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসক চাইলেই কাউকে তার নিজের দায়িত্ব দিয়ে দিতে পারেন না। আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যের এভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’




