গান করে ফেরার পথে বাস দুর্ঘটনায় বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী নিহত

বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী— সংগৃহীত
গান গেয়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। লোকগান ও বাউল সংগীতকে ভালোবেসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে গান পরিবেশন করতেন উঠতি বাউল শিল্পী পেহেলী ভৈরবী। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা থামিয়ে দিল তার সেই পথচলা। সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এই শিল্পী।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে নিহত হন তিনি। দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পেহেলী ভৈরবীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে। বৃহস্পতিবার তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউনিক পরিবহনের বাসে ছিলেন তিনি। পথেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহশিল্পী, আয়োজক ও ভক্তরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, লোকসংগীতের একজন সম্ভাবনাময় কণ্ঠ অকালেই নিভে গেল।
ওসমানীনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পেহেলী ভৈরবীও রয়েছেন। তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, পেহেলী ভৈরবী নিয়মিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল উৎসব ও লোকসংগীতের আসরে অংশ নিতেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার গায়কী ও মঞ্চ পরিবেশনা শ্রোতাদের নজর কাড়ে। গ্রামীণ বাংলার লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার সকালের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, থামিয়ে দিয়েছে একজন সম্ভাবনাময় শিল্পীর সুরের যাত্রাও। তার মৃত্যুতে ভৈরবসহ দেশের লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওসমানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘নিহতদের সবার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।’





