৪ বছরে পদ্মা সেতু, টোল থেকে আয় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি

চার বছরে পা দিল দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু। ছবি: আগামীর সময়
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা পদ্মা সেতুর আজ পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার চার বছর। নানা ঘটনাপ্রবাহে দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের পর ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হয়, দেশের অন্যতম বড় এই অবকাঠামোর। পরদিন শুরু হয় যান চলাচল।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ যান চলাচল করেছে। টোল আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সেতু নির্মাণে নেওয়া ঋণের ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৯ টাকা ৭৫ পয়সা শোধ করা হয়েছে এই আয় থেকে। তৎকালীন সরকার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিল ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকার এই ঋণ।
বৃহস্পতিবার সকালে সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানিয়েছেন এসব তথ্য।
প্রমত্তা পদ্মার বুকে আলোচিত এই সেতু বদলে দিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ভাগ্য। যাতায়াতে কমেছে সময় ও পরিবহন ব্যয়, বেড়েছে কৃষি ও মৎস্যপণ্য বিপণনের সুযোগ, গতিশীল হয়েছে বন্দরভিত্তিক বাণিজ্য।
সরকারের সেতু বিভাগের তথ্য, দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২৯ শতাংশ এলাকায় পড়েছে এই মেগা প্রকল্পের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব। সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা। সেতু থাকায় সেখানকার সবজি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে পৌঁছাচ্ছে কয়েক ঘণ্টাতেই। আগে ফেরিঘাটে আটকে থেকে পচে যেত পণ্য। এখন আর নেই লোকসানের ঝুঁকি।
খুলনার ডুমুরিয়ায় সেতু চালুর পর গড়ে উঠেছে বড় কাঁচা বাজার। প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়, যার বড় অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে পৌঁছায় পদ্মা সেতু হয়ে।
মৎস্য খাতেও এসেছে নতুন গতি। খুলনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের মাছ দ্রুত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্যপণ্য রপ্তানিও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোংলা বন্দরে কনটেইনার বা জাহাজের সীমাবদ্ধতা থাকলেও পদ্মা সেতুর কারণে সহজেই চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করা যাচ্ছে, ফলে রপ্তানি কার্যক্রমে এসেছে গতি।
সেতুর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতেও। সুন্দরবন, কুয়াকাটা, পায়রা ও মোংলাকেন্দ্রিক পর্যটনে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। যাতায়াত সহজ হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে, হোটেল-রিসোর্ট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিনিয়োগও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা সমুদ্রবন্দর, ভোমরা ও বেনাপোল স্থলবন্দর ঘিরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও হয়েছে সম্প্রসারিত। আগে যে পণ্যবাহী ট্রাক ঢাকায় পৌঁছাতে এক দিনের বেশি সময় নিত, এখন তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে।
তবে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। খুলনা, ফরিদপুর, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এখনো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। অনেক শিল্পগোষ্ঠী জমি কিনলেও কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্যাসসংযোগের অভাব, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে আছে।





