ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা খুনে গ্রেপ্তার ৯, নারায়ণগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ। ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলার বাদী বুলবুল হত্যা মামলায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অভিযানে হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। গতরাতেও মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছিলেন স্থানীয় লোকজন।
শুক্রবার ভোরে বন্দর থানার নবীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এসব জানান। তবে গ্রেপ্তার অন্যদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করেনি।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ এলাকায় আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। সেখানে অভিযানে গেলে শেখ সিফাত ও তার লোকজন হামলা চালায়। বন্দর থানার দুই পুলিশ সদস্য এ সময় গুরুতর আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা, সড়কে জ্বালানো হয় বাঁশ-কাঠ। দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ায় ব্যাহত হয় চলাচল।
পরে পুলিশ গিয়ে কথা বললে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সরে যান আন্দোলনকারীরা, জানান ওসি।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেছেন, প্রধান আসামি সিফাত ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ আছে। বুলবুল হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি ছিলেন আত্মগোপনে।
নিহত মো. বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক।গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নাম্বার ওয়ার্ডের সালেহ নগর এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, রাতে শেখ সিফাত গ্রুপের সদস্যরা বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২০২৪ এর ২০ আগস্ট বন্দর থানায় হওয়া জুলাইসংক্রান্ত মামলার বাদী বুলবুল। আসামির তালিকায় ৬ নাম্বারে আছে শেখ সিফাতের নাম।
ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বললেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এই মামলার জেরেই সালেহ নগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের ওপর হামলা চালায়‘।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মামলার পর থেকেই সেটি তুলে নিতে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন সিফাত ও তার সহযোগীরা।
বুলবুলের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই বিক্ষোভে নামে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার লোকজন। শেখ সিফাতের স্বজনদের বাড়িঘরে চালানো হয় হামলা। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। ওসি জামাল উদ্দিন গিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
বন্দর থানা এলাকায় এখনো পরিস্থিতি থমথমে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন আছে সেখানে— জানান ওসি।










