সরিষাবাড়ী
অবৈতনিক প্রাথমিকে ফি আদায়, শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন- ‘ব্যবস্থা নেব’

সংগৃহীত ছবি
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার নামে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরুর পরই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রেণিভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ২ হাজার ৮৮১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ হাজার ৭৮৩ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ হাজার ৮৪৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ হাজার ৮৪১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২ হাজার ৮০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সরেজমিন সাতপোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার ফি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহীন, আরশি ও বাইজিদ জানায়, তারা প্রত্যেকে ২০ টাকা করে দিয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরমান দিয়েছে ৩০ টাকা। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী দর্পণ জান্নাত জানিয়েছে, তারা ৪০ টাকা করে দিয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিষ্টিও ৫০ টাকা দেওয়ার কথা জানায়।
সরিষাবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির জানায়, পরীক্ষার জন্য সে ৩০ টাকা দিয়েছে।
সাতপোয়া গ্রামের অভিভাবক আরিফা সুলতানা বলেন, তার দুই মেয়ে প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। পরীক্ষার ফি হিসেবে দুই মেয়ের জন্য তাকে মোট ৬০ টাকা দিতে হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১৪ হাজার ১৫০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শ্রেণিভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এভাবে মোট প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
তবে ফি আদায়ের বিষয়ে সাতপোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবরিন নাহার বলেন, অসুস্থ থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট সভায় উপস্থিত ছিলেন না। তার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার হ্যাপি সভায় উপস্থিত ছিলেন। তার কাছ থেকেই তিনি জানতে পেরেছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষার ফি আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্দেশ দিলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা পরীক্ষার ফি ফেরত দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা যেহেতু অবৈতনিক, সেক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি নিয়ে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে কোন বিদ্যালয়ে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তার সঠিক হিসাব যাচাই করে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আদায়কৃত অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা যেখানে অবৈতনিক, সেখানে মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।








