কুড়িগ্রাম
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রকাশ্যে, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। এ নিয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারীর চরশৌলমারী ইউনিয়নে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
জমি দখল, চাঁদাবাজি, চোরাকারবার, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ওপর হামলা, বাজারের দোকান দখলের চেষ্টা ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত সাতটি মামলা।
গত ২৯ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত আরা একটি মাদক মামলায় জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি রাজু আহমেদ ওরফে মুসা মোল্লাকে আটক করা হয় আদালত থেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরের বাহিনী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া কয়েকটি পরিবার সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পরিত্যক্ত জমিতে আশ্রয় নেয়। গত ১২ জুন রাতে জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা ও তার সহযোগীরা সেখানে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। একই সময় চরশৌলমারী বাজারের একটি দোকানঘরে তালা ঝুলিয়ে ‘চরশৌলমারী হাট-বাজার’ লেখা পোস্টার লাগিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এক ভুক্তভোগী বললেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে ভাইঙা গেছে। প্রতিমন্ত্রীর পরিত্যক্ত জায়গাতে ঠাঁই নিয়ে আছি। হঠাৎ জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাসহ তার বাহিনীর কিছু লোক আইসা বলে, আপনাদের এখানে আনছে কারা? এই কথা বলেই সব ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। পাশেই থাকা গরুর রশি দিয়ে বেঁধে রাখার চেষ্টা করে এবং অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।’
আরেক ভুক্তভোগী জোবায়দুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ১২ জুন রাত ৮টার দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে এসে তার দোকানঘরে তালা লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করে। তারা হত্যার হুমকিও দেয়। পরে ১৪ জুন বিকেলে অন্য একজনের মাধ্যমে দোকানের চাবি ফেরত পাঠানো হয়। এরপর বণিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দোকান খুলে দেওয়া হয়।
চরশৌলমারী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ডা. কবির হোসেন জানান, ঘটনার পর জাহাঙ্গীর চাবি ফেরত পাঠায়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে খুলে দেওয়া হয় দোকানঘরটি।
চরশৌলমারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এম এ ছাত্তার উল্লেখ করেন, জাহাঙ্গীর আলম আগে বন্দবেড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ইউনিয়ন বিভক্ত হওয়ার পর বর্তমানে বিএনপির কোনো সংগঠনে তার পদ নেই। তবে তিনি বিভিন্ন সময় বিএনপির নাম ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালান বলে শুনেছেন।
রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকের ভাষ্য, বিএনপিতে মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই। কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও সন্ত্রাসী হামলার মামলা রয়েছে। তবে নিম্ন আদালতের রায় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুলিপি এখনো থানায় পৌঁছেনি। এ কারণে তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।




