কুমিল্লা
চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পুঁতে ফেললেন ব্যবসায়ীরা

সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গর্ত করে পুঁতে ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (২৯ মে) নাঙ্গলকোটের গোমকোট ও তেজের বাজারের পাশে গরুর চামড়া পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা গরুর চামড়া সংগ্রহ করে অস্থায়ীভাবে এক জায়গায় জমা করেছিলেন। তাদের আশা ছিল, বড় পাইকাররা এসে ন্যায্য দামে চামড়া কিনবেন। এ কারণে অনেকেই রাত জেগে চামড়ার পাহারাও দেন। কিন্তু প্রত্যাশিত বড় ব্যবসায়ীরা না আসায় তারা বিপাকে পড়েন।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু ছোট পাইকার এসে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকায় চামড়া কিনতে চেয়েছে। তবে বড় কোনো ক্রেতা না আসায় অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় পড়ে যান। পরে বাধ্য হয়ে কিছু ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে চামড়া ফেলে দেন এবং শুক্রবার দুপুরের দিকে বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে তা পুঁতে ফেলেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া পুঁতে ফেলার ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেটের কারণে চামড়ার বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তারা আর এই ব্যবসা না করার কথাও জানান।
মোড্ডা গ্রামের ব্যবসায়ী জসিম জানান, নগদ টাকা দিয়ে চামড়া কিনে তিনি বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কয়েকজন পাইকার ৫০ থেকে ১০০ টাকার বেশি দাম দিতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চামড়া পুঁতে ফেলেন।
গোমকোট গ্রামের অস্থায়ী ব্যবসায়ী ওসমান বললেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ টাকা দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করলেও পরে ন্যায্য দাম পাননি। তাই বাধ্য হয়ে চামড়া গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। তিনি চামড়া ক্রয় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।’
আলীয়ারা গ্রামের সচেতন নাগরিক সাইদুল হক বলেছেন, ‘ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে চামড়া পুঁতে ফেলছেন বা খালে ফেলে দিচ্ছেন।’ এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেছেন, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করা ঠিক হয়নি। আমরা প্রত্যেক মাদরাসায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ পৌঁছে দিয়েছি। কেউ জানালে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।






