সংবাদ সম্মেলনে দাবি
মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। তার দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে দুজনের মধ্যে সামান্য কথা-কাটাকাটি হলেও শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) তাদের সামনে মারামারি বা শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন।
আজ সোমবার দুপুরে মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী এসব কথা বলেন।
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, গত ৮ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের নিয়ে একটি মতবিনিময়সভা হয়। সভা শেষে ইউএনওর কার্যালয়ে কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনার সময় মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেন সেখানে প্রবেশ করেন। সভায় তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং ১০৮ নম্বর সংসদীয় আসনে মেঘনাকে দাউদকান্দির সঙ্গে রাখার পক্ষে মত দেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
রমিজ উদ্দিনের ভাষ্য, জবাবে ইউএনও তাকে জানান, সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন বায়জীদ আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, তবে আলী হোসেন আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন না। এ সময় আলী হোসেন উত্তেজিত হয়ে মন্তব্য করলে তাকে শান্ত করার জন্য তিনি বলেন, ‘বড় ভাই, দয়া করে শান্ত হন।’ জবাবে আলী হোসেন বলেন, ‘আমি তোর কিসের বড় ভাই!’
রমিজ উদ্দিন দাবি করেন, এরপর তাদের মধ্যে আর কোনো কথা-কাটাকাটি হয়নি। আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়নি। সে সময় উপস্থিত মেঘনা থানার ওসি আলী হোসেনকে বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং নিজের সঙ্গে করে কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে রমিজ উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, মেঘনা-হোমনা নির্বাচনী আসনের পক্ষে থাকা একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গতকালের মানববন্ধনের চিত্রেও বিষয়টি বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ওসির বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার বলেন, তার কার্যালয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে তার সামনে মারামারি বা শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে ওসির উপস্থিতিতে দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম।




