লঞ্চের ছাদ থেকে পড়ে নিখোঁজ যাত্রী

উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা - আগামীর সময়
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পা পিছলে লঞ্চ থেকে কালাবদর নদীতে পড়ে মো. রানা (১৭) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকার নদীতে ঘটে এই ঘটনা।
নিখোঁজ রানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। তিনি মা-বাবার সঙ্গে আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াতে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথে ঘটে এই দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, দুই দিন আগে রানার পরিবার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কামরুল মোল্লার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে আজ সকালে তারা লঞ্চে করে রওনা দেন বরিশালের উদ্দেশে। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পরই অসাবধানতাবশত রানা পা পিছলে নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় মুহূর্তেই তিনি স্রোতের টানে তলিয়ে যান।
স্থানীয় মো. রাসেল বলেছেন, ঘটনার পরপরই আমরা জাল ও নৌকা নিয়ে তাকে খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু দ্রুত স্রোতের কারণে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে কালীগঞ্জ নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
কালীগঞ্জ নৌপুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল জানিয়েছেন, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই ঘটনায় ওই লঞ্চটির চলাচলের সময়সূচি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিক আব্দুস সালাম মোল্লার কাছে পাঠানো হয়।
ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪ লঞ্চটি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লেঙ্গুটিয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ভোলাইবাড়ির সামনে লঞ্চের ছাদে অবস্থানরত যাত্রী নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ছাদে যাত্রী পরিবহন করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।






