পাহাড়ের ঢালে সোনালি স্বপ্ন, রামুর কলায় হাসছে কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
এ বছর কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ের ঢাল ও উঁচু জমিতে ব্যাপক চাষে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। বিশেষ করে উপজেলা সদর ও ঈদগড় বাজারে এখন কলা বিক্রির ধুম পড়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কলা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, চলতি মৌসুমে রামুর বিভিন্ন ইউনিয়নে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। ফলে কলার উৎপাদনও বেড়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এতে নতুন উদ্যোক্তারাও কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
ঈদগড় এলাকার কৃষক আব্দুল হক বললেন, ‘এ বছর কলার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বাজারে দামও সন্তোষজনক। তাই উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ভালো লাভ করতে পারছি।’
তিনি জানালেন, প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার সকালে ঈদগড় বাজারে বড় কলার হাট বসে। স্থানীয় কৃষকরা সেখানে তাদের উৎপাদিত কলা নিয়ে আসেন। ভোর থেকেই হাট জমে ওঠে। পাইকার ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকে।
কৃষক আব্দুল হামিদ ও আব্দুল জব্বার বললেন, ‘পাহাড়ের ঢাল ও উঁচু জমিতে কলা চাষ করে এখন অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ধানসহ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন কলা চাষে ঝুঁকছেন।’
তারা জানান, রামুর মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ কারণেই প্রতিবছর কলা চাষের পরিধি বাড়ছে।
স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রামুর কলা এখন কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কলা কিনে ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।
কক্সবাজার শহরের ব্যবসায়ী আরিফ বললেন, তিনি বেশিরভাগ সময় রামু থেকেই কলা কেনেন। এখানে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের কলা পাওয়া যায়। তাই নিয়মিত ঈদগড়ের হাটে আসেন।
কৃষি অধিদপ্তরের স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম ইমরুল নেওয়াজ বললেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে কলা চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, কলার বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের আয় বাড়াচ্ছে না। এটি রামুর স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এ সম্ভাবনাময় খাতকে আরও এগিয়ে নিতে উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা প্রয়োজন।





