ছুটির সকালে সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ

সংগৃহীত ছবি
শুক্রবার সকালে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ার এরুলিয়ায় বাসের চাপায় ৭ জন ও সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে ৯ জনের। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়ার এরুলিয়ায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী এসি বাস রাস্তার পাশে থাকা শ্রমিকদের বাজারে ঢুকে যায়। এ সময় সেখানে কাজের অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ধানকাটার শ্রমিক।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানিয়েছেন, বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও ৪ জন।
নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন, গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৫০), নূর আলম (৫০), আবদুস ছামাদ ও বেলাল; জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার।
অন্যদিকে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন প্রাণ হারান। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় দুইজন।
ওসমানীনগর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশিরভাগই এই বাসের যাত্রী।
নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২৫), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছরের মেয়ে জাইফা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০) এবং ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওসমানী মেডিকেলের আইসিইউতে আছেন তারা- জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর।
ওসমানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শেষ হলে স্বাভাবিক হয় সড়ক।




