ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম নেই তালিকায়
- পূর্বধলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রণোদনা

সংগৃহীত ছবি
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয় সরকারের তরফ থেকে। কর্মসূচির আওতায় একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৩ কিস্তিতে ৯ হাজার টাকা এবং ৪৫ কেজি চাল পাওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, নেত্রকোনার পূর্বধলায় সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী— এমনকি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন— এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে সেই তালিকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি যাচাই না করে প্রভাবশালীদের সুপারিশে তৈরি করা হয়েছে এই তালিকা। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বহু কৃষক বঞ্চিত হলেও সরকারি সহায়তা পেয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠজনরা।
কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৩ কৃষককে প্রণোদনার জন্য করা হয়েছে নির্বাচন। তবে তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, সেখানে সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, রাজনৈতিক কর্মী, দোকানি, গার্মেন্টকর্মী, সাংবাদিকসহ এমন অনেকের নাম রয়েছে, যাদের কৃষিকাজের সঙ্গে নেই তেমন সংশ্লিষ্টতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ইউনিয়নে একই পরিবারের চার-পাঁচ সদস্যের নাম করা হয়েছে তালিকাভুক্ত। আবার একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তালিকা প্রকাশের পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। গত ১০ জুন ঘাগড়া ইউনিয়ন, ১৫ জুন জারিয়া ইউনিয়ন এবং ১৬ জুন হোগলা ইউনিয়নে প্রণোদনা বিতরণের সময় কৃষকরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ১০টিরও বেশি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তাদের দাবি, বর্তমান তালিকা বাতিল করে আবার মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের করতে হবে তালিকাভুক্ত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে তালিকা। যদিও অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে গিয়ে কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেনের ভাষ্য, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুত করতে হয়েছে তালিকা। পরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে আরও কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন তালিকার বাইরে থেকে যেতে পারেন।
অনিয়মের বিষয়ে কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। ‘জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে’— বলেন তিনি।
কীভাবে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, সেটি জানা নেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার। তবে কোনো অসংগতি থাকলে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে— বললেন তিনি।




