বাউল-সাধুদের ক্ষোভ
উগ্র মৌলবাদী চক্রের পরিকল্পনায় মাজারে হামলা

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.)-এর মাজারসহ দেশের বিভিন্নস্থানে মাজার, খাদেম ও ভক্তদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাউল-সাধুরা।
আজ বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ির মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘সার্বজনীন গুরুবাদ ভক্ত ও আশেকান বৃন্দর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত বাউল, সাধু, আশেকান ও লালন অনুসারী অংশ নেন।
তীব্র রোদ উপেক্ষা করে তারা মাজার সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর চলমান হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাক্তার শামছুল আলম, ওস্তাদ রতন শাহ, হৃদয় শাহ, আলী শাহ ও ফকির মামুন। উপস্থিত ছিলেন আকলিমা বাউল, আলেয়া বাউল, ঝর্ণা বাউল ও আলী আহসান তুফানসহ অনেকে।
ডাক্তার শামছুল আলম মন্তব্য করেন, লালনের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাধু-সন্ন্যাসী ও মাজারের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ফকির হৃদয় শাহ তার বক্তব্যে লালনের দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তার মন্তব্য, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি, এই মানুষে আছেরে মন যারে বলে মানুষ রতন। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষকে না চিনে যারা মাজার ও মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তারা মনুষ্যত্ব থেকে সরে গিয়ে পশুত্বের পরিচয় দিচ্ছে।
তার ভাষ্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো মাজার, মন্দির বা মানুষের মনে আঘাত নয়, বরং মানুষের মধ্যে মানবিক বোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি উগ্র মৌলবাদী চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের হাজার বছরের মাজার সংস্কৃতি ও সুফি ধারার ওপর আঘাত হানছে। দেশের বিভিন্নস্থানে ভক্ত ও খাদেমদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
বক্তারা মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারসহ দেশের সব মাজার ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে আগামীতে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




