হুমকির মুখে তিন স্কুল
- বিষখালী নদীতে তীব্র ভাঙন

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে তিনটি বিদ্যালয়। গত সপ্তাহের ভাঙনে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ নদীর তীররক্ষা বাঁধের বড় অংশ বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়গুলোর ভবনও নদীতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে পাশাপাশি রয়েছে ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙতে ভাঙতে বিষখালী নদী এখন বিদ্যালয় দুটির একেবারে কাছে চলে এসেছে। জোয়ারের সময় নদীর পানি উঠে আসে বিদ্যালয়ের মাঠে। তীব্র ঢেউ আছড়ে পড়ে ভবনের কাছাকাছি। কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ নদীতে বিলীন হয়েছে নদীর তীররক্ষা বাঁধের বড় একটি অংশ।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন ভবনের কাছাকাছি চলে এসেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের সময় মাঠে পানি উঠে যায়। ছোট শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় সবসময়। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বিদ্যালয়টি।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা বলেছেন, একসময় বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ছিল। নদীভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভবানীপুর বাজারসংলগ্ন চাঁদপুরা গ্রামের চাঁদপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা বলেছেন, ‘নদী এখন বিদ্যালয় থেকে ১০-১৫ ফুট দূরে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুণ্ডু জানালেন, সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






