মুক্তির অপেক্ষা শেষ, ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

ছবি: আগামীর সময়
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হয়বতনগর এলাকার যুবক শাকিল হাসান। কিন্তু সাত বছর পর তিনি দেশে ফিরলেন মরদেহ হয়ে। দীর্ঘ কারাভোগের পর সৌদি আরবের একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়।
আজ শনিবার ভোরে শাকিলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও এলাকায়।
শাকিল হাসান হয়বতনগর এলাকার ওমর ফারুকের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বৈধ ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। তবে সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়ায় শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন।
শাকিলের বাবা ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বিদেশে থাকা ছেলের কষ্টের কথা শুনে পরিবার থেকেও নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাঠানো হতো। পরিবারের সবাই আশা করেছিলেন, একদিন তিনি ফিরে এসে সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি।
স্বজনদের দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর একটি ঘটনায় শাকিল গ্রেপ্তার হন। পরে আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তির চেষ্টা চালানো হলেও তিনি আর কারামুক্ত হতে পারেননি। গত ১৬ মে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
শাকিলের চাচা ওমর হোসেন বকুল বলেছেন, প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। তার ভাষ্য, কর্মস্থলের তিন সহকর্মী নিজেদের অপরাধ শাকিলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ায় তিনি আইনি জটিলতায় পড়েন এবং দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে বাধ্য হন।
শাকিলের ফুফা সাইফুল ইসলাম বাদল জানিয়েছেন, মুক্তির আশায় ঋণ করে সৌদি আরবের এক আইনজীবীকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে অর্থ নেওয়ার পর ওই আইনজীবীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
তিনি আরও বলেছেন, শাকিলের মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আনতেও আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবার। পরে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের সহযোগিতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।


