সরাইল
৪০০ ফুট কাঁচা সড়কে ভোগান্তি ৪০ হাজার মানুষের

ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা তিতাস নদীর ঘাট এলাকায় মাত্র ৪০০ ফুট কাঁচা সড়ক পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
কাসিমখার বাজার ঘাট নামে পরিচিত এই অংশটি বর্ষা শুরু হলেই পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে পড়ে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল। এতে মোড়াহাটী, বন্দেরহাটি, কুচনী, বুড্ডা, ক্ষমতাপুর, আখিতারা ও নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বদিকে শাহবাজপুর-বুড্ডা ৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং পশ্চিমদিকে কালীকচ্ছ-নোয়াগাঁও-আখিতারা ভায়া ৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক এসে এই ঘাট এলাকায় মিলিত হয়েছে। কিন্তু সংযোগস্থলের মাত্র ৪০০ ফুট রাস্তা কাঁচা থাকায় পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি উপজেলার পূর্বাঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদর, শাপলা বিল ও পাশের নাসিরনগর উপজেলায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। একই সঙ্গে এটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। শাপলা বিলের কৃষিপণ্য পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বুড্ডা গ্রামের বাসিন্দা অলি আহাদ মৃধা জানান, দুই সড়কের সংযোগস্থলের কাঁচা অংশটি পাকাকরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো ফল নেই। এলজিইডির সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী আনিছুর রহমান সরেজমিনে এলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বুড্ডা নদীর তীরে গড়ে ওঠা তিতাস এগ্রো ফার্মের পরিচালক হাবিবুর রহমান সুমন উল্লেখ করেন, কাঁচা সড়কটি পাকা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে যেত।
বুড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুহেল রানা এবং কুচনী গ্রামের স্বাস্থ্য সহকারী প্রাণেশ দাস জানালেন, মাত্র ৪০০ ফুট রাস্তা পাকা না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষকে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
প্রবাসী আজিজুর রহমান মৃধা দাবি করেন, এক বছর আগে এলজিইডির তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিন সমস্যা দেখানো হলেও এখনো নেই কার্যকর উদ্যোগ।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদের ভাষ্য, বুড্ডা ঘাটে শাহবাজপুর-বুড্ডা ও আখিতারা-বুড্ডা সড়ক এসে মিলেছে। দুই পাশে পাকা সড়ক থাকলেও মাঝখানের ৪০০ ফুট কাঁচা অংশে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।
সরাইল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।






