৪০ বছর ঢাক বাজাচ্ছেন রাজকুমার

দুর্গাপূজা এলেই ব্যস্ততা বাড়ে রাজকুমার দাসের। ঢাকের বোল তুলতে ডাক পড়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে। বয়স ৫৬ বছর হলেও ঢাক হাতে নিলে ক্লান্তি ভুলে যান তিনি। প্রায় ৪০ বছর ধরে দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঢাক বাজাচ্ছেন ময়মনসিংহের এই ঢাকি। ১৮ বছর ধরে টানা নেত্রকোনার সাহাপাড়ার একটি পূজামণ্ডপে ঢাক বাজাচ্ছেন তিনি।
আধুনিক শব্দযন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও দুর্গাপূজায় ঢাকের প্রচলন এখনো রয়েছে। পূজামণ্ডপে ঢাক বাজিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন ঢাকিরা। রাজকুমার দাসও প্রায় চার দশক ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ঢাক বাজানোর পাশাপাশি তিনি নতুন প্রজন্মকে এ বাদ্যযন্ত্র শেখাচ্ছেন।
রাজকুমার দাসের জন্ম কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে। তার বাবা মোহনবাসী দাস ঢোল বাজাতেন, আর দাদা বাজাতেন বাঁশি। পরিবারের এই বাদ্যযন্ত্রের চর্চাই তাকে টেনে আনে ঢাক-ঢোলের জগতে। স্বাধীনতার পর সংসারের অভাব মেটাতে তারা ময়মনসিংহ নগরে চলে আসেন। বাবার কাছেই ঢাক ও ঢোল বাজানো শেখেন রাজকুমার।
প্রায় ৪০ বছর আগে পেশাদারভাবে ঢাক বাজানো শুরু করেন তিনি। ময়মনসিংহ নগরের স্বদেশি বাজার এলাকার একটি পূজামণ্ডপে প্রথম দুর্গাপূজায় ঢাক বাজিয়েছিলেন। তখন পাঁচ দিনের পূজায় পারিশ্রমিক পেতেন ৪০০-৪৫০ টাকা। তার দলে সদস্য ছিলেন ১০-১২ জন।
সময় বদলেছে, বদলেছে ঢাকিদের আয় ও আয়োজনও। রাজকুমার জানিয়েছেন, এখন তার দলে সদস্য চারজনের মতো। পূজার ছয় দিনে তারা প্রায় ৬০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান।
ঢাক বাজানোর পাশাপাশি ঢাক ও ঢোল তৈরিও করেন রাজকুমার। তার তৈরি প্রতিটি বাদ্যযন্ত্র ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। পূজার মৌসুমে বিক্রি বাড়লেও বছরের অন্য সময়ে তেমন বিক্রি থাকে না। ফলে ঢাক বাজানো ও বাদ্যযন্ত্র তৈরি— দুই কাজ মিলিয়েই চলে তার সংসার।
ঢাক বাজানোর ঐতিহ্য ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকেও শেখাচ্ছেন রাজকুমার দাস। তার দাবি, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে তার কাছে ঢাক বাজানো শিখেছেন চার থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী। চরঈশ্বরদিয়ায় নিজের বাড়িতে সপ্তাহে দুদিন তাদের তালিম দেন তিনি। ভালোভাবে ঢাক বাজানো শিখতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে বলে জানিয়েছেন এই শিল্পী।
দেশের পরিচিত কয়েকজন বাউলশিল্পীর সঙ্গেও ঢাক-ঢোল বাজিয়েছেন রাজকুমার। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল বাউল, আরিফ দেওয়ান, গনি সরকার ও আলেয়া বেগম। এ ছাড়া দুবার ভারত সফরের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।



