জামিন পেলেন সেই দম্পতি

ছবি: আগামীর সময়
মধ্যরাতে স্ত্রীর আবদার মেটাতে পিকআপ নিয়ে বেরিয়েছিলেন স্বামী। পরে গরুচোর সন্দেহে আটকের পর এই দম্পতির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার বিকালে পাবনা আমলি আদালত-২-এর বিচারক তরিকুল ইসলাম শুনানি শেষে তাদের জামিন দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) আনোয়ারা বেগম।
তিনি জানিয়েছেন, ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে দম্পতিকে আদালতে পাঠায়। পরে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়া দম্পতি হলেন ঈশ্বরদী পৌর শহরের শহীদ আমিনপাড়া এলাকার মৃত ইউনুছ শেখের ছেলে রায়হান শেখ (২৫) এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন (১৮)।
দম্পতির ভাষ্য, সোমবার রাত দেড়টার দিকে সুমাইয়া খাতুন ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তারা নিজস্ব পিকআপ নিয়ে বের হন। প্রায় এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর পৌর শহরের উমিরপুর এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। তারা সেখানে গাড়ি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ফজল মালিথা তাদের দেখে গরুচোর সন্দেহ করেন। পরে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে প্রায় দুই ঘণ্টা দম্পতিকে আটকে রাখা হয়। রায়হান শেখের দাবি, এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধরও করেন।
ভোর ৪টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক তদন্তে তারা গরুচোর নন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মধ্যরাতে ওই এলাকায় অবস্থানের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ব্যবহৃত পিকআপটিও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় কয়েকজন রায়হান শেখকে মারধর করেছেন। পরে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গরুচোর সন্দেহে দম্পতিকে আটকের পর মারধর এবং আদালতে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দম্পতি বা অন্য কোনো পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






