খোলা আকাশের নিচে ক্লাস

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় প্রতিদিন তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে নিতে হচ্ছে ক্লাস। বৃষ্টি, তীব্র রোদ কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ রাখতে হয় পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পুরনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় ২০২১ সালে। পরে ২০২৪ সালে নিলামের মাধ্যমে ভবনটি অপসারণ করা হলেও এখনো শুরু হয়নি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ। ফলে অস্থায়ী ব্যবস্থায় চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ২১০ জন। তাদের পাঠদানের জন্য ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র দুটি। দুই কক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান করা হলেও অন্য তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয় বিদ্যালয়ের মাঠে বা খোলা জায়গায় বসিয়ে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, খোলা জায়গায় শিক্ষার্থীদের বসিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষক। মাথার ওপর ছাদ না থাকায় রোদ থেকে বাঁচতে কেউ কেউ বসেছে গাছের ছায়ায়। বৃষ্টি হলে এভাবে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
শিক্ষকরা বলেছেন, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ক্লাস বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে হয়। প্রচণ্ড রোদেও খোলা জায়গায় দীর্ঘ সময় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা খাতুন বললেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবন সংকটের কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, একসময় বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ভবন সংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২১০-এ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেছেন, খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেছেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দিতে অস্থায়ী টিনশেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।






