বাঁশের সাঁকোই ২০ হাজার মানুষের ভরসা

বিয়ানীবাজারের ঘাঘুয়া-ফুলমলিকের ২০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো
আশির দশক। চারপাশে সবুজ গাছপালা, মাঝে এঁকেবেঁকে চলে গেছে পায়ে হাঁটা মেঠো পথ। আশেপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াত এ পথেই। শহর থেকে কেউ এলে অথবা কোনো প্রয়োজনে শহরে গেলে, এ পথেই যাতায়াত করে সবাই।
তবে সমস্যা একটাই। পথের মধ্যে থাকা খালটা। একটু বৃষ্টি হলেই ভরে যায় পানিতে। তখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হওয়া মানে বিশাল বিপদ। একটু পা পিছলালেই... তাই বর্ষায় পারতপক্ষে এ পথে আসে না কেউ। অন্য যেই ঘুরপথ তাতে সময় লাগে ঢের বেশি। কিন্তু জীবনের মায়া তো সবার আগে।
আশায় বুক বাঁধে গ্রামের মানুষ। কাছের শহরেই চলছে সেতুর কাজ। হয়তো একদিন এমন একটি সেতু হবে এখানেও। তখন দিব্যি আরামেই শহরে ছুটতে পারবে গ্রামের মানুষ।
একে একে পার হয় ৫৫ বছর। ঘাঘুয়া ও ফুলমলিক গ্রামের বাসিন্দাদের স্বপ্ন সত্যি হয়নি। যুগের পর যুগ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আশ্বাসি পেয়েছে শুধু, তবে সেতু পাওয়া আর হয়নি।
সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের দুটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৫৫ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন তারা। বর্ষায় খালের পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় সাঁকো ভেঙে দুই গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনোভাবে পারাপার করা গেলেও বর্ষায় দুর্ভোগ চরমে ওঠে। তখন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, ঘাঘুয়া ও ফুলমলিক গ্রামের প্রধান সড়কটি একটি খালের কারণে বিভক্ত। ২০১৯ সালে কয়েকটি গ্রামের মানুষ মিলে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় সাঁকোটি ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা সেটি সংস্কার করেন। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়েই সাঁকোটি ব্যবহার করছেন দুই গ্রামের মানুষ।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক মাস আগে গ্রামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় খুব সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কাঁধে করে সাঁকো পার করে মরদেহ নিতে হয়েছে।’
বিদ্যালয়ের ছাত্রী মারিয়া জান্নাত ইকরা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক দূর হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সাঁকো পার হতে সময় লাগে। অনেক সময় ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারি না।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশলী দীপক কুমার দাস জানান, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় খালের ওপর সেতু নির্মাণের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ‘অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মেয়াদ বাড়লে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুসহ আরও কয়েকটি সেতু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।’







