হামে মৃত্যু বেড়ে ৯২৮, ডেঙ্গু কেড়েছে ৭৭ প্রাণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দিন যত যাচ্ছে, ততই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। একের পর এক প্রাণহানিতে হাম পরিস্থিতি রূপ নিচ্ছে ভয়াবহ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ৯২৮ জনে। এর মধ্যে হামজনিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে ৯৯ জনের মৃত্যু। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৮২৯ জন। একই সময়ে দেশে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছেন ৪২৮ জন। সিলেট বিভাগে ১৪১ জন, রাজশাহীতে ৯৫, ময়মনসিংহে ৭৪, চট্টগ্রামে ৭৩, বরিশালে ৬৮, খুলনায় ৩৩ এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই হামজনিত মৃত্যু পৌঁছেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে।
শুধু হাম নয়, একই সময়ে নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুও। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৩৮৮ জন। মারা গেছেন ৭৭ জন। মৃতদের মধ্যে নারীর হার ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষের হার ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বেড়েছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে আগস্টে। এক মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৭৮ জন। এর আগে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ২০৬ জন এবং জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানেই ডেঙ্গু সংক্রমণের গতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
একদিকে শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ ও মৃত্যু, অন্যদিকে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান বিস্তার— দুই সংকটই বাড়তি চাপ তৈরি করছে জনস্বাস্থ্যের ওপর। বিশেষ করে হামের ক্ষেত্রে আক্রান্তের বিপুল সংখ্যা এবং মৃত্যুর বড় অংশ উপসর্গভিত্তিক হওয়ায় পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জোরদার করতে হবে নগর ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম।






